বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তেলাপোকা ঘরে এলো কীভাবে, ‘চায়না তেলাপোকা’ কি সত্যিই চীনের?

সোনালী হোসেন
রান্নাঘরের অন্ধকার কোণ, আলমারির চিপা কিংবা বাথরুমের ড্রেন—মানুষের বসতবাড়িতে তেলাপোকার উপস্থিতি যেন নিত্যদিনের ঘটনা। কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে থাকা এই প্রাণী কীভাবে মানুষের ঘরের
বাসিন্দা হলো, আর বাংলাদেশে পরিচিত ‘চায়না তেলাপোকা’ আসলে কোথা থেকে এসেছে—তা নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় বাংলাদেশে চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আটটি তেলাপোকা প্রজাতির সন্ধান
পাওয়া যায়। এর মধ্যে আমেরিকান, ব্রাউন, অস্ট্রেলিয়ান ও জার্মান ককরোচ উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের আরেক গবেষণায় ঢাকার বাসাবাড়ি ও হাসপাতালগুলোতে জার্মান ককরোচের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি বলে উঠে আসে। তবে নামের সঙ্গে মিল থাকলেও
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দ্বিতীয় অংশ
‘জার্মান ককরোচ’ জার্মানির আদি প্রাণী নয়। ২০২৪ সালের একটি জিনোমিক গবেষণা অনুযায়ী, Blattella germanica-এর উৎপত্তি প্রায় ২,১০০ বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ায়—সম্ভবত ভারত বা মিয়ানমার অঞ্চলে। পরে মানুষের বাণিজ্য, যাতায়াত ও পণ্যবাহী জাহাজের মাধ্যমে এটি
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ছোট আকারের এই তেলাপোকাকেই অনেক সময় ‘চায়না তেলাপোকা’ বলা হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এটি চীনা তেলাপোকা নয়। প্রকৃত Chinese cockroach বা Eupolyphaga sinensis সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রজাতি, যা
চীনে ঐতিহ্যবাহী ওষুধে ব্যবহৃত হয়। একইভাবে ‘আমেরিকান ককরোচ’ বা তেলাপোকা ও আমেরিকার আদি প্রাণী নয় বলে ধারণা করা হয়। মানুষের বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের পথ ধরেই বিভিন্ন তেলাপোকা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ, তেলাপোকার বিশ্বভ্রমণের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মানুষই।