শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম, চিকিৎসার খরচ ও খাবার জোগাতে হিমশিম

এশিয়ান সময়: নিউজ ডেস্ক
অস্ত্রোপচারের পর কল্পনা বেগমের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হয়েছে। ওষুধ ও শিশুদের খাবার বাবদ প্রতিদিন দেড় হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এই খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম নেওয়া
পরিবারটি। কল্পনা বেগম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকায় জায়দুল হকের স্ত্রী। জায়েদুল বাক্‌প্রতিবন্ধী। তিনি আন্ধারীঝাড় বাজারের একটি হোটেলে কাজ করেন। গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কল্পনা বেগম তিন সন্তানের জন্ম দেন। একজনের ওজন ছিল দুই কেজি। অন্য দুজনের ওজন এক কেজি ৯০০ গ্রাম করে। তিন সন্তানের জন্মে পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও বেড়েছে। অস্ত্রোপচারের পর কল্পনা বেগমের
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দ্বিতীয় অংশ
ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হয়েছে। তাঁর ওষুধ এবং তিন নবজাতকের দুধ বাবদ প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬৭৫ টাকা খরচ হচ্ছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এই খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। কল্পনা বেগমের বাবার বাড়ি ভূরুঙ্গামারীর আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের দেওয়ানির খামার এলাকায়। বর্তমানে সেখানে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে আছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, আর্থিক সংকটের কারণে অস্ত্রোপচারের পর কল্পনাকে স্বামীর বাড়িতে না রেখে বাবার বাড়িতে রাখা হয়েছে। তাঁর স্বামীর আয়ও নিয়মিত নয়। ফলে একসঙ্গে
তিন নবজাতকের খাবার ও মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কল্পনা বেগম বলেন, ‘একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় আমি অনেক খুশি। কিন্তু আমি অসুস্থ। স্বামীও প্রতিবন্ধী। এখন বাবার বাড়িতে আছি। কৃষক বাবার পক্ষে এত টাকা বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন সন্তান ও আমার চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় আমি অনেক খুশি। কিন্তু আমি অসুস্থ। স্বামীও প্রতিবন্ধী। এখন বাবার বাড়িতে আছি। কৃষক বাবার পক্ষে এত টাকা বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কল্পনা বেগম, প্রসূতি
কল্পনার বাবা আবুল কালাম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মেয়ের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এখন তিন নাতি ও মেয়ের খরচ চালাতে পারছেন না। জামাতাও নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। তিনি নবজাতকদের চিকিৎসা ও খাবারের খরচ চালাতে সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, গত বুধবার পরিবারটি তাঁর কাছে এসেছিল। তাঁদের ৩ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়েছে। পরিবারটিকে স্থানীয়ভাবে কীভাবে আরও সহযোগিতা করা যায়, সেই বিষয়ে চেষ্টা করা হবে।