রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন সংকট ২০২৬: ইউরোপে ৫৯ লাখ শরণার্থী, দেশে বাস্তুচ্যুত ৩৭ লাখ

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
ইউক্রেন সংকট: ইউরোপে ৫৯ লাখ শরণার্থী, গৃহহীন প্রায় ৩৭ লাখ নাগরিক ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে পুরো ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও
বৃহত্তম মানবিক সংকট। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক মিলিয়ন মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সর্বশেষ
তথ্যানুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৯ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, যাদের সিংহভাগই বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে আছেন। যুদ্ধের প্রত্যক্ষ
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দ্বিতীয় অংশ
ও পরোক্ষ প্রভাবে কেবল সীমান্ত অতিক্রমই নয়, বরং ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। নিজ দেশের সীমানার ভেতরেই প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ নিজেদের ভিটামাটি ছেড়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অঞ্চলগুলোতে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছেন। সব মিলিয়ে ইউক্রেনের মূল জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ বর্তমানে নিজস্ব বাসস্থান হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর সমন্বিত হিসাব মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং শীতকালীন বস্ত্রসহ জরুরি মানবিক সহায়তার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ মানুষের
অনতিবিলম্বে সহায়তার প্রয়োজন। ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আবাসন, চিকিৎসা ও মৌলিক জীবনযাত্রার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে ইউরোপের প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী দেশগুলো। তালিকার শীর্ষ স্থানে রয়েছে জার্মানি, যেখানে এ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১২ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক। এছাড়া ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে নিকটবর্তী দেশ পোল্যান্ডে অবস্থান করছেন প্রায় ১০ লাখ এবং চেক প্রজাতন্ত্রে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ। এই দেশগুলোতে ইউক্রেনীয়দের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদী এই সংকটের ফলে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর
ওপর বিপুল চাপ তৈরি হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘায়িত যুদ্ধের কারণে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা এবং মূল শহরগুলোর জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। স্থায়ী কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসা এবং মৌলিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সামনের দিনগুলোতে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এবং বিদেশে শরণার্থী প্রবাহ আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাসমূহ। এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পরবর্তী আপডেটে কি ইউরোপীয় দেশগুলোর নতুন অর্থায়ন নীতি নাকি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন তুলে ধরতে চান?