<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
     xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
     xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
     xmlns:admin="http://webns.net/mvcb/"
     xmlns:rdf="http://www.w3.org/1999/02/22-rdf-syntax-ns#"
     xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
     xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/">
<channel>
<title>এশিয়ান সময় &#45; রুদ্র রুহান</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/rss/author/রুদ্র-রুহান</link>
<description>এশিয়ান সময় &#45; রুদ্র রুহান</description>
<dc:language>en</dc:language>
<dc:rights>স্বত্ব © ২০২৫ এশিয়ান সময়!</dc:rights>

<item>
<title>পুলিশের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, গুলিবিদ্ধ ২</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/510</link>
<guid>https://www.asiansomoy.com/510</guid>
<description><![CDATA[ পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৪, ২০:২৯
পাবনায় পুলিশের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া একজন গুলিবিদ্ধ। ছবি: আজকের পত্রিকা
পাবনায় পুলিশের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া একজন গুলিবিদ্ধ। ছবি: আজকের পত্রিকা
পাবনার সুজানগর উপজেলা নির্বাচনী প্রচারণায় হট্টগোল নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাদশা (২৫) ও মতিন ৪৫ নামের দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া আব্দুল আউয়াল (৪৮) নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


আজ বৃহস্পতিবার (২ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ভায়না কালীর মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ দুজন শাহীনের সমর্থক। আর আহত আউয়াল অপর প্রার্থী ওয়াহাবের সমর্থক।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সুজানগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল ওহাব (প্রতীক মোটরসাইকেল), অন্যজন হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীন (প্রতীক আনারস)। 


আজ বিকেলে শাহীনের সমর্থকেরা ভায়না কালীর মোড়ে নির্বাচনী প্রচারণায় যান। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল ওহাবের সমর্থক ও ভায়না ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিনের ভাতিজা আব্দুল আওয়ালকে কথা-কাটাকাটির জেরে কিল-ঘুষি মারেন। তখন ভায়না ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন শাহীন চেয়ারম্যানের লোকজনকে ধাওয়া দিলে তাঁরা পালিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁরা আবার লোকজন নিয়ে ভায়না ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিনের বাড়ি ঘেরাও করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। 

এমন খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয় পুলিশ। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শাহীন চেয়ারম্যানের লোকজনের কথা-কাটাকাটি থেকে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি হয়। পরে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় বাদশা নামের এক যুবক পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে আহত বাদশাকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত বাদশা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনের সমর্থক বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে হট্টগোল নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনের লোকজন ভায়না ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করলে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু পুলিশের ওপর চড়াও হওয়াটা দুঃখজনক। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। একজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তাঁকে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। 

চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনের লোকজন সারা উপজেলায় আমার লোকজনের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আজকের ঘটনা তারই অংশ। তারা পুলিশকেও মানছে না।’ 

এ বিষয়ে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘আমার এক সমর্থককে মারধর করে ভায়না ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন। এ নিয়ে আমার লোকজন জড়ো হলে আমিন চেয়ারম্যানের লোকজন গুলি করে। পুলিশ গুলি করেনি।’ এ ঘটনায় তাঁর সমর্থক কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ]]></description>
<enclosure url="https://www.asiansomoy.com/uploads/images/202405/image_870x580_6633bd2db1c3d.jpg" length="77078" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 03 May 2024 07:50:36 +0600</pubDate>
<dc:creator>রুদ্র রুহান</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://www.asiansomoy.com/uploads/images/202405/image_870x_6633bd2dbcdad.jpg" alt=""></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>শোকজের পরেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/508</link>
<guid>https://www.asiansomoy.com/508</guid>
<description><![CDATA[ বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে গত ২২ মে প্রার্থী খলিলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। নোটিশের পরেও খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘণ করে প্রচারণায় মিছিল ও শো ডাউন ও করছেন বলে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের অভিযোগ। ]]></description>
<enclosure url="https://www.asiansomoy.com/uploads/images/202405/image_870x580_663274344f673.jpg" length="64219" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 02 May 2024 08:26:33 +0600</pubDate>
<dc:creator>রুদ্র রুহান</dc:creator>
<media:keywords>বেতাগী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">খলিলুর রহমান বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যহতি নিয়ে বেতাগী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মত প্রার্থী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে দলের একটি বড় অংশকে সঙ্গে নিয়ে নেমেছেন মাঠে।</p>
<p style="text-align: justify;"></p>
<p style="text-align: justify;">২য় ধাপে ২১ মে বেতাগী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান ফোরকান (বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান), সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খান যিনি সদ্য পদত্যাগ করা (ইউপি) চেয়ারম্যান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খ. ম. ফাহারিয়া সংগ্রাম আমিনুল সাবেক (ইউপি) চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়াও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস ছোবাহান, বরগুনা জেলা পরিষদের সাবেক (প্যানেল চেয়ারম্যান) নাহিদ মাহমুদ হোসেন ও রিয়াজ হোসেন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রার্থী হয়েছেন। </p>
<p style="text-align: justify;"></p>
<p style="text-align: justify;">প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের অভিযোগ, খলিলুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওই মদদে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। </p>
<p style="text-align: justify;"></p>
<p style="text-align: justify;">উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খ. ম. ফাহারিয়া সংগ্রম আমিনুল বলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এবিএম গোলাম কবিরের প্রভাবে তিনি আচরণবিধির তোয়াক্কা না করেই নিজের মত করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি মুলত পরপর দুইবার ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে যেভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সেভাবেই উপজেলা নির্বাচনেও প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমরা একাধিবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি কমিশন ব্যবস্থা নেবে। প্রতিদ্বন্দি অন্য প্রার্থীদের খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও মাঠে প্রভাব বিস্তারের বিস্তর অভিযোগ। </p>
<p style="text-align: justify;"></p>
<p style="text-align: justify;">এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিলুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, আসলে আচরণবিধির বিষয়ে আমি আবগত ছিলাম না বলেই ভুল করেছিলাম। জানার পর থেকে আর ভুলগুলো করছিনা। প্রভাব বিস্তার প্রসঙ্গে বলেন, আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনে প্রচারণা চালাচ্ছি, এটাকে যারা প্রভাব মনে করছে তারা আমার সমর্থনে ভীত। </p>
<p style="text-align: justify;"></p>
<p style="text-align: justify;">উল্লেখ্য, সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৮৬ জন ভোটার অধ্যুষিত বেতাগী উপজেলায় মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র। আগামী ২১শে মে দ্বিতীয় ধাপে বেতাগী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ব্যালোটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে।</p>
<p style="text-align: justify;"></p>
<p style="text-align: justify;">বরগুনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হাই আল হাদি বলেন, খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঙ্ঘনের অভিযোগ পেয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। জবাব পেলে পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এরপরও তিনি যদি লঙ্ঘন করেন আমরা বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেব।</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>মারধরের পর নদীতে ফেলে দেয়া হয় জেলে রিপনের মরদেহ</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/504</link>
<guid>https://www.asiansomoy.com/504</guid>
<description><![CDATA[ নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বিষখালী নদীর পূর্ব কালমেঘা পয়েন্ট থেকে জেলে রিপনের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ওই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ]]></description>
<enclosure url="https://www.asiansomoy.com/uploads/images/202404/image_870x580_662cd36c347b7.jpg" length="86884" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 28 Apr 2024 01:59:58 +0600</pubDate>
<dc:creator>রুদ্র রুহান</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জেলে ও নিহতের পরিবারের দাবি, মৎস্য বিভাগের অভিযানে আটক জেলে রিপনকে বেধরক মারপিটে নৌকায়ই নিহত হন জেলে রিপন। পরে তার মরদেহ নদীতে ফেলে দেয় অভিযানে অংশ নেয়া মৎস্য বিভাগের দুই শ্রমিক। এ ঘটনায় বরগুনা সদর উপজেলা মৎস্য এসএম মাহমুদুল হাসান ও তার সাথে থাকা শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয় জেলেরা। </p>
<p style="text-align: justify;">নিহত রিপন কালমেঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ কুপদোন গ্রামের রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্যান শ্রমিক ছিলেন। তবে নদীতীরের বাসিন্দা হওয়ার দিনে ভ্যান চালানোর পাশাশি রাতে মাছ শিকারে যেতেন। মা, বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ছয় সদস্য’র পরিবারে রিপন একাই ছিলেন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।</p>
<p style="text-align: justify;">নিহতের স্ত্রী পাখি বেগম জানান, বৃহষ্পতিবার রাত ১২টার দিকে রিপন মাছ ধরার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে কালমেঘা টুলু পয়েন্টে যান। স্থানীয় জেলে মাসুম বিল্লাহ জানান, রাত ২টার দিকে দুটি নৌকায় মোট চারজন জেলে নদীতে জাল ফেলতে যায়। এর মধ্যে জেলে রিপন ও নৌকার মালিক দেলোয়ার একটি নৌকায় ও জেলে রাসেল ও ইসা সালাম নামের এক জেলের নৌকায় জাল ফেলে নদীতে অপেক্ষা করছিল। </p>
<p style="text-align: justify;">ঘটনায় আহত জেলে রাসেল জানান, রাত আড়াইটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলা মৎস্য এসএম মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ছয়জন শ্রমিকসহ একটি স্পিডবোট সেখানে এসে ধাওয়া করে রাসেল ও ইসার নৌকাটি আটক করে। পরে রাসেলকে স্পিডবোটে তুলে নেন আর এসময় সুযোগ বুঝে ইসা সেখান থেকে নৌকাটি নিয়ে দ্রæত তীরে চলে আসেন। এরপর রাসেলসহ স্পিডবোটটি ধাওয়া দিয়ে দেলোয়ার ও রিপনকে নৌকাসহ আটক করে। এক পর্যায়ে দেলোয়ারকে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে জেলে রিপনের নৌকায় দুজন শ্রমিককে রেখে জাল উঠানোর নির্দেশ দিয়ে জেলে রাসেল ও দেলোয়ারসহ স্পিডবোট নদীর পুবদিকে অভিযানে চলে যান মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল। রাসেল জানান, সেখানে গিয়ে কিছু নৌকা ও জেলেদের আটক করে বেধরক মারপিট করে জাল উঠিয়ে নিয়ে ফের স্পিডবোট চালিয়ে রিপনের বোটের কাছে আসেন ওই মৎস্য কর্মকর্তা। বোটে রিপনসহ মৎস্য কর্মকর্তার সাথে নিয়ে আসা দুজন শ্রমিককে রেখে গেলেও রিপনকে দেখতে না পেয়ে শ্রমিকদের কাছে রিপনের খোঁজ জানতে চান তিনি। এসময় ওই শ্রমিকরা জানান, রিপন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। সকাল পর্যন্ত স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে তারা রিপনকে খুঁজতে থাকেন। খোঁজ না পেয়ে সকাল সাড়ে আটটারর দিকে আটক জেলে দেলোয়ার ও রাসেলকে কালমেঘা টুলু পয়েন্টে বোটসহ রেখে দিয়ে মৎস্য কর্মকর্তা স্পিডবোট নিয়ে বরগুনা চলে যান। পওে স্থানীয় জেলেরা আহতাবস্থায় রাসেল ও দেলোয়ারকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান। এ ঘটনায় আহত জেলে দেলোয়ার বলেন, আমাদের স্পিডবোটে তুলে বেধরক লাঠিপেটা করে মৎস্য কর্মকর্তার সাথে আসা কয়েকজন শ্রমিক। এতে আমরা উভয়ে আহত হয়ে বোটে পড়ে থাকি। রিপনকে যে শ্রমিকদের কাছে নৌকায় রেখে যাওয়া হয়েছিল ওই শ্রমিকরা বেধরক লাঠিপেটা করেছে। আমার ধারণা এতেই রিপনের মৃত্যু হয় এক পর্যায়ে তাকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">দক্ষিণ কুপদোন এলাকার এক জেলের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার ও নৌকা জাল আছে। মৎস্য বিভাগের অভিযানের খবর পেয়ে আমি খোঁজ নিতে রাত আড়াইটার পরে নদীতীরে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে মাঝ নদীতে চিৎকারের শব্দ পেয়ে টর্চ লাইটের আলো ফেলি। এসময় নৌকা থেকে আমাকে লাইট না মারতে সঙ্কেত দেয়া হয়। আমি শুনতে পাই, স্যার আমারে আর মাইরেন না, এই জাল এখন উঠানো সম্ভব না। সম্ভব হলে আমি উঠায়ে দিতাম। পাও ধরছি স্যার, আমারে আর মারলে মইরা যামু।’ ওই জেলে বলেন, কিছুক্ষণ পর আর সাড়া শব্দ না পেয়ে আমি বাড়িতে চলে আসি। পরেরদিন জানতে পারি জেলে রিপন নিখোঁজ। </p>
<p style="text-align: justify;">কালমেঘা টুলু পয়েন্ট এলাকার জেলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, অবৈধ জাল উদ্ধারে গভীর রাতে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা কিছু শ্রমিক সাথে নিয়ে আসেন। এই শ্রমিকরা জেলেদের ব্যপক মারধর করে। বিভিন্ন সময়ে এরা অভিযানে নেমে অনেক জেলেকে মেরে আহত করেছে। ওইদিন আমাদের এপাড়ের জেলে দেলোয়ার ও রাসেলকে মেরে আহত করে রেখে গেছে। আর রিপনকে তারা পিটিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। এমনকি রিপন নিখোঁজ হওয়ার পর মৎস্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা উদ্ধারেও সহযোগীতা করেনি। আমরা শুক্রবার দিনভর নিজেরা খুঁজেছি। অবশেষে রাত ১টার দিকে পুর্ব কালমেঘা এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় রিপনের মরদেহ খুঁজে পেয়ে পুলিশকে খবর দেই। মাসুম বলেন, আমার ভাইকে মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশে মারধর করা হয়েছে আর এতে তিনি নিহত হয়েছেন। আমরা এক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। </p>
<p style="text-align: justify;">পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। রিপনের নাকে মুখে রক্ত ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগ অভিযানে নেমে জেলেদের মারধর করে এমন অভিযোগ আগেও আমি জেলেদের কাছ থেকে শুনেছি। তারা আইন হাতে তুলে নেয়ার অধিকার রাখেনা। আমরা রিপন হত্যার বিচার চাই। </p>
<p style="text-align: justify;">এ বিষয়ে কথা বলতে বরগুনা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম এবং রাসেল ও দেলোয়ার নামের দুজন জেলেকে নৌকাসহ আটক করেছিলাম। অভিযান শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে রিপন নামের কাউকে আটক করা হয়নি। রিপনকে মারধর কওে নদীতে ফেলে হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, জেলেদের অবৈধ জাল ফেলে মাছ শিকারে বাঁধা দেয়ায় আমাদে বিরুদ্ধে জেলেরা রিপনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। </p>
<p style="text-align: justify;"></p>
<p style="text-align: justify;">পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ সাইফুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। এখনো আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। </p>
<p style="text-align: justify;">উল্লেখ্যঃ গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে বিষখালী নদীতে বরগুনা সদর মৎস্য বিভাগের অভিযানে মারধরে ঘটনা ঘটে। এসময় নদীতে পরে পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের জেলে রিপন নিখোঁজ হয়‌। নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর শুক্রবার দিবাগত রাত বারোটার দিকে কালমেঘার ছোনবুনিয়ার একটি জঙ্গল থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও স্বজনরা।</p>]]> </content:encoded>
</item>

</channel>
</rss>