<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
     xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
     xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
     xmlns:admin="http://webns.net/mvcb/"
     xmlns:rdf="http://www.w3.org/1999/02/22-rdf-syntax-ns#"
     xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
     xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/">
<channel>
<title>এশিয়ান সময় &#45; : পারিবারিক আইন</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/rss/category/পারিবারিক-আইন</link>
<description>এশিয়ান সময় &#45; : পারিবারিক আইন</description>
<dc:language>en</dc:language>
<dc:rights>স্বত্ব © ২০২৫ এশিয়ান সময়!</dc:rights>

<item>
<title>স্ত্রী তালাক দিলেও কি দেনমোহর দিতে হয়? জানুন আইনের বিধান</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/3110</link>
<guid>https://www.asiansomoy.com/3110</guid>
<description><![CDATA[ বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রী তালাক দিলে দেনমোহর, ভরণপোষণ ও তালাক কার্যকরের নিয়ম কী—জানুন বিস্তারিত। পাশাপাশি জাল কাবিননামা তৈরি, আইনি শাস্তি ও দণ্ডবিধির গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো সম্পর্কেও তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। ]]></description>
<enclosure url="https://www.asiansomoy.com/uploads/images/202605/image_870x580_6a03cfd4b3dc2.webp" length="10838" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 13 May 2026 07:12:25 +0600</pubDate>
<dc:creator>আইনি পরামর্শ: ইন্সপেক্টর শরীফ</dc:creator>
<media:keywords>স্ত্রী তালাক দিলেও কি দেনমোহর দিতে হয়</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্ত্রী যদি বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক দিতে চান, তাহলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে যদি স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া থাকে, তাহলে তিনি সরাসরি তালাকের নোটিশ দিতে পারেন। আর যদি এ ক্ষমতা না দেওয়া থাকে, তাহলে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে তালাকের ডিক্রি নিতে হয়।</p>
<p>১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, তালাক কার্যকর করতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হয় এবং অপর পক্ষকেও সেই নোটিশের কপি দিতে হয়। চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়। এই সময়ের মধ্যে সালিসি পরিষদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।</p>
<p>অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে স্ত্রী যদি নিজে থেকে তালাক দেন, তাহলে দেনমোহর পরিশোধ করতে হয় না। বাস্তবে এটি সঠিক নয়। স্ত্রী তালাক দিলেও স্বামীর ওপর দেনমোহর পরিশোধের দায়িত্ব বহাল থাকে। কাবিননামায় উল্লেখিত দেনমোহরের পরিমাণ অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে হয়। যদি কাবিনে উল্লেখ থাকে যে দেনমোহরের একটি অংশ আগে পরিশোধ করা হয়েছে, তাহলে অবশিষ্ট অংশ পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি বকেয়া ভরণপোষণ এবং ইদ্দতকালীন ভরণপোষণও প্রাপ্য হতে পারে।</p>
<p>যদি কোনো ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে কাবিননামা পরিবর্তন বা ভুয়া নিকাহনামা তৈরি করেন, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা যেতে পারে।</p>
<p>দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারায় জালিয়াতির শাস্তি হিসেবে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া ৪৬৬ ধারায় আদালতের নথি, সরকারি রেজিস্টার, বিয়ে বা জন্মসংক্রান্ত নথি জাল করার অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। এ ধরনের অপরাধ গুরুতর এবং অনেক ক্ষেত্রে জামিনযোগ্য নয়।</p>
<p>তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূল কাবিননামা, নোটিশের কপি এবং অন্যান্য প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে পারিবারিক আদালত বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত, যাতে আইন অনুযায়ী সঠিক প্রতিকার পাওয়া যায়।</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>স্ত্রী ডিভোর্স ও তালাকা দিলে কি দেনমোহরের টাকা পাবে</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/784</link>
<guid>https://www.asiansomoy.com/784</guid>
<description><![CDATA[ স্ত্রী ডিভোর্স বা তালাক দিলেও দেনমোহরের টাকা পাবে কারণ এটি বিয়ের চুক্তির অংশ এবং তার অধিকার, যা স্বামীকে পরিশোধ করতে হয়। ]]></description>
<enclosure url="https://www.asiansomoy.com/uploads/images/202405/image_870x580_6654aea1de091.webp" length="27376" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 28 May 2024 06:41:54 +0600</pubDate>
<dc:creator>আইনি পরামর্শ: ইন্সপেক্টর শরীফ</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;"><span>স্ত্রী ডিভোর্স বা তালাক দিলেও দেনমোহরের টাকা পাবে কারণ এটি বিয়ের চুক্তির অংশ এবং তার অধিকার, যা স্বামীকে পরিশোধ করতে হয়।</span></p>
<h2 style="text-align: justify;">দেনমোহরের মূল ধারণা</h2>
<p style="text-align: justify;">দেনমোহর (মোহরানা) হলো একটি আর্থিক প্রতিশ্রুতি, যা বিয়ের সময় স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে দেওয়া হয় বা ভবিষ্যতে প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুত থাকে। এটি ইসলামী বিয়ের একটি বাধ্যতামূলক শর্ত এবং স্ত্রীর একটি অধিকার।</p>
<h3 style="text-align: justify;">ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী</h3>
<p style="text-align: justify;">ইসলামী শরীয়াহ মতে, দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার এবং বিয়ের চুক্তির একটি অংশ। স্ত্রীর তালাক দেওয়ার ক্ষমতা থাকলে এবং তিনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তালাক দেন, তাতেও দেনমোহর পরিশোধের দায়িত্ব স্বামীর উপর বর্তায়। এর কারণ:</p>
<ol style="text-align: justify;">
<li><strong>স্বামীর প্রতিশ্রুতি</strong>: বিয়ের সময় দেনমোহরের মাধ্যমে স্ত্রীকে একটি আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করা হয়। এটি একটি আইনগত ও ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি, যা সম্পূর্ণ করা আবশ্যক।</li>
<li><strong>বিয়ের চুক্তি</strong>: দেনমোহর বিয়ের চুক্তির অংশ। তালাক যেই দিক থেকেই আসুক না কেন, এই চুক্তি অনুযায়ী দেনমোহর প্রদান করতে হবে।</li>
<li><strong>স্ত্রীর অধিকার</strong>: তালাকের মাধ্যমে স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। এটি তার অধিকার, যা স্বামীকে প্রদান করতে হবে।</li>
</ol>
<h3 style="text-align: justify;">বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী</h3>
<p style="text-align: justify;">বাংলাদেশের পারিবারিক আইনও শরীয়াহ নির্ভর। তাই, এখানে দেনমোহর প্রদানের নিয়ম শরীয়াহর অনুরূপ:</p>
<ol style="text-align: justify;">
<li><strong>পারিবারিক আইন</strong>: ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী, দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার এবং এটি পরিশোধ করতে হবে।</li>
<li><strong>তালাকের ধরণ</strong>: তালাক যেই দিক থেকেই আসুক না কেন, দেনমোহর পরিশোধের দায়িত্ব স্বামীর উপরই থাকে।</li>
</ol>
<h3 style="text-align: justify;">তালাকের প্রসঙ্গ</h3>
<p><img src="https://encrypted-tbn0.gstatic.com/images?q=tbn:ANd9GcS0z1sl3q8aHxj2M7MEF28ttli9Y6nu1_vFig&amp;s" width="500" height="260" alt="" style="display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;"></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>১. আমাদের তালাক হয়েছে কি? কারণ, আমি কোথাও কোনো সই করিনি।</strong></p>
<p style="text-align: justify;">যদি আপনার স্ত্রী আপনাকে তালাকের নোটিশ প্রদান করে থাকে এবং নোটিশটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, বা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে। নোটিশ পাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে কোনো সালিসি পরিষদ গঠিত না হলে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। আপনার সই না করা সত্ত্বেও, স্ত্রীর তালাকের ক্ষমতা থাকলে এবং নিয়ম মেনে তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়ে থাকলে, তা বৈধ তালাক হিসেবে বিবেচিত হবে।</p>
<h3 style="text-align: justify;">দেনমোহর প্রসঙ্গ</h3>
<p><img src="https://encrypted-tbn0.gstatic.com/images?q=tbn:ANd9GcRvnH1f45ZS1dyvXi6R59xRmD2LBIo009xc-A&amp;s" width="500" height="313" alt="" style="display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;"></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>২. যদি স্ত্রী তালাক দেয়, তাহলে কি কাবিনের টাকা আমাকে দিতে হবে?</strong></p>
<p style="text-align: justify;">হ্যাঁ, যদি স্ত্রী তালাক দেয়, তাহলেও দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা প্রদান বাধ্যতামূলক।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>৩. সে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করছে। কিন্তু আমাদের কাবিনে টাকার পরিমাণ ৫ লাখ। তাকে কত টাকা দিতে হবে?</strong></p>
<p style="text-align: justify;">যদি কাবিননামায় দেনমোহরের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা উল্লেখ থাকে, তবে আপনাকে কেবল সেই ৫ লাখ টাকাই দিতে হবে। যদি গয়না বাবদ ২ লাখ টাকা ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়ে থাকে, তাহলে বাকি ৩ লাখ টাকা আপনাকে দেনমোহর বাবদ দিতে হবে। ইদ্দতকালীন ভরণপোষণও আপনার দায়িত্বে থাকবে।</p>
<h3 style="text-align: justify;">প্রতারণার অভিযোগ</h3>
<p style="text-align: justify;">যদি আপনার মনে হয় কাবিননামা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে, আপনি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করতে পারেন। এই বিষয়ে দণ্ডবিধির ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে পারেন, যার ফলে অপরাধী ব্যক্তিকে যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।</p>
<h3 style="text-align: justify;">উপসংহার</h3>
<p style="text-align: justify;">আপনার তালাক ও দেনমোহরের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে এটি সমাধান করা সম্ভব।  স্ত্রী যদি তালাক দেয়, তবুও তাকে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হয়। এটি শরীয়াহ ও পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রীর একটি অধিকার এবং স্বামীর একটি বাধ্যবাধকতা।</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিভোর্সের পর সন্তানের জিম্মা ও অভিভাকত্ব নিয়ে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/771</link>
<guid>https://www.asiansomoy.com/771</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://www.asiansomoy.com/uploads/images/202405/image_870x580_6650bcab61775.webp" length="16260" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 25 May 2024 07:49:07 +0600</pubDate>
<dc:creator>আইনি পরামর্শ: ইন্সপেক্টর শরীফ</dc:creator>
<media:keywords>ডিভোর্সের পর সন্তানের জিম্মা ও অভিভাবকত্ব। বাংলাদেশের আইনে সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ ও কল্যাণ বিবেচনায় মায়ের অধিকার।</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বাংলাদেশে <strong><a href="https://www.asiansomoy.com/761" target="_blank" rel="noopener">তালাক ও ডিভোর্স</a></strong> পরবর্ততে সন্তান কার কাছে থাকবে। তছাড়াও অভিভাবকত্ব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে জটিলতা ক্রমশই বেড়ে চলেছে।  এই সময় সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে রিরোধ এর কারনে সন্তানই একমাত্র ভূক্তভোগি হয়। এই সকল জটিলতা বা রিরোধ নিরসনে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে স্বামী বা স্ত্রীর অভিযোগের পেক্ষিতে নিরসন করে থাকে। </span></p>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বাংলাদেশের আইনে ডিভোর্স বা তালাকের পর সন্তানের জিম্মা (Custody) ও অভিভাবকত্ব (Guardianship) নিয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। এই বিধানগুলো মূলত পারিবারিক আইন এবং ধর্মীয় আইনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। </span></p>
<h2><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>মুসলিম পারিবারিক আইন।</strong></span></h2>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীনে সন্তানের জিম্মা এবং অভিভাবকত্ব নিয়ে নিম্নলিখিত নিয়মগুলি প্রচলিত:</span></p>
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);">1. প্রাথমিক হেফাজত (Hizanat):</span></h3>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="text-align: justify; color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>ছেলেসন্তান:</strong> সাধারণত ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মা সন্তানের প্রাথমিক হেফাজত পান।</span></li>
<li style="text-align: justify; color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>মেয়েসন্তান:</strong> মেয়ের বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত মা সন্তানের প্রাথমিক হেফাজত পান।</span></li>
</ul>
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);">2.জিম্মার পরিবর্তন:</span></h3>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানের পিতা বা অন্য কোন অভিভাবক সন্তানের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে আদালতে মায়ের কাছ থেকে সন্তানের জিম্মা চেয়ে আবেদন করতে পারেন।</span></p>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানের কল্যাণ যদি মায়ের জিম্মায় না থাকে তবে আদালত সন্তানের জিম্মা পিতার কাছে বা অন্য কোন উপযুক্ত অভিভাবকের কাছে স্থানান্তর করতে পারেন।</span><br><span style="color: rgb(0, 0, 0);"></span></p>
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);">3.বিচারকের বিবেচনা:</span><br><span style="color: rgb(0, 0, 0);"></span></h3>
<ul>
<li style="list-style-type: none; color: rgb(0, 0, 0);">
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বিচারক সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে জিম্মা নির্ধারণ করবেন।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানকে মায়ের কাছে রাখলে তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক স্থিতি ও মানসিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।</span></li>
</ul>
</li>
</ul>
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>হিন্দু পারিবারিক আইন</strong></span></h3>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বাংলাদেশে হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী ডিভোর্সের পর সন্তানের জিম্মা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিধান রয়েছে:</span></p>
<ol>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>সন্তানের কল্যাণ</strong>:</span>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ ও কল্যাণ বিচারক সর্বদা বিবেচনা করবেন।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">পিতা সাধারণত সন্তানের প্রধান অভিভাবক হন, তবে সন্তানের মঙ্গল বিবেচনা করে মা জিম্মার আবেদন করতে পারেন।</span></li>
</ul>
</li>
</ol>
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);">খ্রিস্টান পারিবারিক আইন</span></h3>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">খ্রিস্টান পারিবারিক আইনেও সন্তানের কল্যাণ ও স্বার্থ বিচারকের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। খ্রিস্টান আইন অনুযায়ী ডিভোর্সের পর সন্তানের জিম্মা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে নিম্নলিখিত নিয়ম রয়েছে:</span></p>
<ol>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<h4><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>জিম্মার আবেদন</strong>:</span></h4>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">ডিভোর্সের পর মা বা পিতা উভয়েই সন্তানের জিম্মার আবেদন করতে পারেন।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানের কল্যাণ ও স্বার্থ নিশ্চিত করতে বিচারক সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।</span></li>
</ul>
</li>
</ol>
<h2><span style="color: rgb(0, 0, 0);">আদালতের ভূমিকা</span></h2>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বাংলাদেশে ডিভোর্সের পর সন্তানের জিম্মা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত সন্তানের কল্যাণ ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয়:</span></p>
<ol>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>শিক্ষা ও স্বাস্থ্য</strong>:</span></h3>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">মা বা পিতা যেই সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ভালোভাবে নিশ্চিত করতে পারবেন, তাকে জিম্মা প্রদান করা হয়।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>আর্থিক স্থিতি</strong>:</span></h3>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানের আর্থিক প্রয়োজন মেটানো।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">আর্থিক স্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মা বা পিতাকে জিম্মা দেওয়া হয়।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতিশীলতা</strong>:</span></h3>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানের নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সন্তানের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে জিম্মা নির্ধারণ করা হয়।</span></li>
</ul>
</li>
</ol>
<h3><span style="color: rgb(0, 0, 0);">যে সব কারণে মা তার জিম্মাদারিত্বের অধিকার হারান</span></h3>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বাংলাদেশের পারিবারিক আইনে ডিভোর্সের পর মায়ের জিম্মাদারিত্ব (custody) নিয়ে কিছু বিশেষ শর্ত রয়েছে, যার অধীনে মা তার জিম্মাদারিত্ব হারাতে পারেন। এই শর্তগুলো সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রণীত। মা তার জিম্মাদারিত্ব হারানোর কিছু সাধারণ কারণ হলো:</span></p>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><img src="https://www.bangladesherkhabor.net/resources/img/article/201907/40175_135.jpg" width="650" height="350" alt="প্রতীকী ছবি: জিম্মাদারিত্বের অধিকার " style="display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;"></span></p>
<ol>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>নীতিহীন জীবনযাপন করলে</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">যদি মা নীতিহীন বা অসামাজিক জীবনযাপন করেন যা সন্তানের কল্যাণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে তিনি জিম্মাদারিত্ব হারাতে পারেন।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>নিষিদ্ধ স্তরের কারো সঙ্গে বিয়ে করলে</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">যদি মা এমন কারো সঙ্গে বিয়ে করেন যিনি সন্তানের জন্য নিষিদ্ধ স্তরের মধ্যে পড়েন, তবে তার জিম্মাদারিত্ব বাতিল হতে পারে। তবে এই ধরনের বিয়ে যদি শেষ হয় বা বিচ্ছেদ হয়, তাহলে মায়ের জিম্মাদারিত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>সন্তানের প্রতি অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">যদি মা সন্তানের প্রতি অবহেলা করেন বা তার প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি জিম্মাদারিত্ব হারাতে পারেন।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>বিয়ে থাকা অবস্থায় বাবার বসবাসস্থল থেকে দূরে বসবাস করলে</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">মায়ের যদি বৈবাহিক সম্পর্ক থাকে এবং তিনি সন্তানের পিতার বাসস্থানের বাইরে বসবাস করেন, তবে তিনি জিম্মাদারিত্ব হারাতে পারেন।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করলে</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">মুসলিম আইন অনুযায়ী, যদি মা ইসলাম ছেড়ে অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করেন, তবে তিনি তার সন্তানের জিম্মাদারিত্ব হারাতে পারেন।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>সন্তানের পিতাকে সন্তানের সাথে দেখা করতে না দিলে</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">যদি মা সন্তানের পিতাকে তার জিম্মায় থাকা সন্তানের সাথে দেখা করতে না দেন, তবে তিনি তার জিম্মাদারিত্ব হারাতে পারেন।</span></li>
</ul>
</li>
</ol>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);">এছাড়া, বিচারক সন্তানের কল্যাণের জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করে। মা যদি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হন এবং সন্তানের কল্যাণ নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে আদালত সন্তানের জিম্মাদারিত্ব পরিবর্তনের আদেশ দিতে পারে। <strong><a href="https://www.asiansomoy.com/761" target="_blank" rel="noopener">বিবাহ ও তালাক সংক্রান্তে বিস্তারিত</a></strong></span></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশে বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া</title>
<link>https://www.asiansomoy.com/761</link>
<guid>https://www.asiansomoy.com/761</guid>
<description><![CDATA[ বাংলাদেশে বিবাহ ও তালাকের প্রক্রিয়া, শর্ত, নোটিশ, পুনর্মিলন প্রচেষ্টা ও পারিবারিক আদালতের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। ]]></description>
<enclosure url="https://www.asiansomoy.com/uploads/images/202405/image_870x580_664f80b612926.webp" length="52490" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 24 May 2024 09:23:21 +0600</pubDate>
<dc:creator>আইনি পরামর্শ: ইন্সপেক্টর শরীফ</dc:creator>
<media:keywords>বাংলাদেশে বিবাহ ও তালাকের প্রক্রিয়া, শর্ত, নোটিশ, পুনর্মিলন প্রচেষ্টা ও পারিবারিক আদালতের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<h2 style="text-align: justify;"><strong><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বিবাহ</span></strong></h2>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>বিবাহ</strong> হলো দুটি ব্যক্তির মধ্যে একটি আইনি এবং সামাজিকভাবে স্বীকৃত সম্পর্ক, যা পারস্পরিক সম্মতি, নির্ধারিত বয়স, কাবিননামা, এবং দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিবন্ধিত হয়। বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহের জন্য বরের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং কনের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে। বিবাহ সম্পন্ন হলে, এটি নিকার রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নিবন্ধন করা হয়, যা আইনগত সুরক্ষা প্রদান করে।</span></p>
<h2 style="text-align: justify;"><a href="https://www.asiansomoy.com/771" target="_blank" rel="noopener"><strong><span style="color: rgb(0, 0, 0);">তালাক</span></strong></a></h2>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>তালাক</strong> হলো স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের আইনগত বিচ্ছেদ, যা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত পূরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, তালাক দেওয়ার আগে স্বামীকে একটি লিখিত নোটিশ চেয়ারম্যানকে প্রদান করতে হবে এবং স্ত্রীর কাছে একটি কপি পাঠাতে হবে। নোটিশের পর ৯০ দিনের মধ্যে পুনর্মিলনের চেষ্টা করতে হবে, পুনর্মিলন না হলে তালাক কার্যকর হবে।</span></p>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বিবাহের পূর্ব শর্তগুলি</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">মুসলিম বিবাহের জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:</span></p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>বর ও কনের সম্মতি:</strong> বর এবং কনে উভয়ের সম্মতি বিবাহের জন্য বাধ্যতামূলক।</span></p>
<ol style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>বর এবং কনের বয়স:</strong> বর এবং কনের বয়স আইনত নির্ধারিত হওয়া উচিত। মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বরের সর্বনিম্ন বয়স ২১ বছর এবং কনের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হবে।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>কাবিননামা:</strong> বিবাহের সময় কাবিননামা প্রস্তুত করা আবশ্যক। এতে কাবিনের পরিমাণ উল্লেখ থাকবে যা বর কর্তৃক কনেকে প্রদান করা হয়।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>দুই সাক্ষীর উপস্থিতি:</strong> কমপক্ষে দুইজন মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন হতে হবে।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>নিকার রেজিস্ট্রার:</strong> নিবন্ধিত নিকার রেজিস্ট্রার দ্বারা বিবাহ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।</span></li>
</ol>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বাংলাদেশের বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত আইনগুলি মূলত দুটি প্রধান আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (Muslim Family Laws Ordinance, 1961) এবং পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ (Family Courts Ordinance, 1985)। এখানে আমি বিস্তারিতভাবে এই আইনগুলি ব্যাখ্যা করবো।</span></p>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">এই অধ্যাদেশটি মুসলিম বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। এর কয়েকটি প্রধান ধারা হলো:</span></p>
<h4 style="text-align: justify;"><strong><span style="color: rgb(0, 0, 0);">ধারা ৬: দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি</span></strong></h4>
<ul style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">কোনো ব্যক্তি যদি জীবিত স্ত্রীর জীবদ্দশায় দ্বিতীয় বিবাহ করতে চান, তাহলে তাকে প্রথমে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে।</span></li>
</ul>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">তালাকের আইনি প্রক্রিয়া</span></h3>
<h4 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">ধারা ৭: তালাকের নোটিশ প্রদান</span></h4>
<ol style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>তালাক ঘোষণা</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">স্বামী যখন তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চান, তখন তাকে তালাকের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তা মুখে বা লিখিতভাবে ঘোষণা করতে হবে।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>লিখিত নোটিশ</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">তালাকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, স্বামীকে লিখিত নোটিশ চেয়ারম্যান (স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র) বরাবর প্রেরণ করতে হবে। এই নোটিশে তালাকের কারণ উল্লেখ করতে হবে।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">একই নোটিশ স্ত্রীর কাছেও পাঠাতে হবে।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ গ্রহণ</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">চেয়ারম্যান নোটিশ প্রাপ্তির পর তা রেজিস্টারে নথিভুক্ত করবেন এবং স্বামীর জন্য একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্র (acknowledgment receipt) ইস্যু করবেন।</span></li>
</ul>
</li>
</ol>
<h4 style="text-align: justify;"><strong><span style="color: rgb(0, 0, 0);">পুনর্মিলনের প্রচেষ্টা</span></strong></h4>
<ol style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>আরবিট্রেশন কাউন্সিল গঠন</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">নোটিশ প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান পুনর্মিলনের জন্য একটি আরবিট্রেশন কাউন্সিল গঠন করবেন। এই কাউন্সিলের সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী এবং তাদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">কাউন্সিল উভয় পক্ষকে পুনর্মিলনের জন্য চেষ্টা করবে।</span></li>
</ul>
</li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>পুনর্মিলনের সময়কাল</strong>:</span></p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">নোটিশ দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে পুনর্মিলন সম্ভব না হলে তালাক কার্যকর হবে।</span></li>
</ul>
</li>
</ol>
<h4 style="text-align: justify;"><strong><span style="color: rgb(0, 0, 0);">তালাক কার্যকর হওয়া</span></strong></h4>
<ol style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);">
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>তালাক কার্যকর হওয়া</strong>:</span></p>
</li>
</ol>
<ul style="list-style-type: square;">
<li><span style="color: rgb(0, 0, 0);">নোটিশ দেওয়ার ৯০ দিন পর, যদি পুনর্মিলন না হয়, তাহলে তালাক কার্যকর হবে।</span></li>
<li><span style="color: rgb(0, 0, 0);">যদি স্ত্রী গর্ভবতী হন, তবে সন্তানের জন্ম না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।</span></li>
</ul>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>আইনি নথি</strong>:</span></p>
<ul>
<li style="list-style-type: none;">
<ol>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">তালাক কার্যকর হওয়ার পর, চেয়ারম্যান একটি তালাক সার্টিফিকেট ইস্যু করবেন যা আইনি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।</span></li>
</ol>
</li>
</ul>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><a href="https://www.asiansomoy.com/771" target="_blank" rel="noopener">পারিবারিক আদালত</a> অধ্যাদেশ, ১৯৮৫</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">এই অধ্যাদেশটি পারিবারিক মামলাগুলি সমাধানের জন্য বিশেষ আদালত স্থাপন করেছে। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো:</span></p>
<h4 style="text-align: justify;"><strong><span style="color: rgb(0, 0, 0);">ধারা ৫: আদালতের এখতিয়ার</span></strong></h4>
<ul style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">পারিবারিক আদালত নিম্নলিখিত মামলাগুলি বিচার করতে পারবে: বিবাহ, তালাক, দাম্পত্য অধিকার, খোরপোষ, শিশুদের হেফাজত, এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা।</span></li>
</ul>
<h4 style="text-align: justify;"><strong><span style="color: rgb(0, 0, 0);">ধারা ৭: সালিশি প্রক্রিয়া</span></strong></h4>
<ul style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">আদালত উভয় পক্ষকে সালিশির মাধ্যমে সমাধান করতে উৎসাহিত করবে।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">সালিশি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে, আদালত মামলা পরিচালনা করবে এবং রায় প্রদান করবে।</span></li>
</ul>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">শাস্তির বিধান</span></h3>
<ul style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ: এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়দণ্ড (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১, ধারা ৬)।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">তালাকের নোটিশ না দিলে: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে।</span></li>
</ul>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বিবাহ নিবন্ধন</span></h3>
<ul style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং নিবন্ধক (নিকার) দ্বারা সম্পন্ন করতে হবে।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">নিবন্ধিত বিবাহ আইনি সুরক্ষা প্রদান করে এবং বিতর্কের ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।</span></li>
</ul>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">আদালতের প্রক্রিয়া</span></h3>
<ul style="text-align: justify;">
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত মামলাগুলি পারিবারিক আদালতে দায়ের করতে হয়।</span></li>
<li style="color: rgb(0, 0, 0);"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">পারিবারিক আদালত দ্রুত ও কার্যকর বিচার প্রদান করতে পারে।</span></li>
</ul>
<p style="text-align: justify;"></p>
<h2 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>পারিবারিক আদালতে নিম্ন বর্ণিত মামলাগুলি দায়ের করা যায়।</strong></span></h2>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বাংলাদেশের পারিবারিক আদালত পারিবারিক বিরোধের দ্রুত ও কার্যকর সমাধানের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫-এর অধীনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি এই আদালতে মামলা হিসেবে দায়ের করা যায়:</span></p>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><img src="https://media.licdn.com/dms/image/D5612AQGO_j3O2TLjNQ/article-cover_image-shrink_720_1280/0/1711171051003?e=2147483647&amp;v=beta&amp;t=H6FlzlOqFDd0Y94Uis2S15BD3ovYB6iVqHXlXLzSr4Q" width="500" height="333" alt="" style="display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;"></span></p>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">১. বিবাহবিচ্ছেদ (Divorce)</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়, যেমন তালাক প্রদান, তালাকের পরে অধিকার ও দায়িত্ব, এবং পুনর্মিলনের চেষ্টার মামলা পারিবারিক আদালতে করা হয়।</span></p>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">২. দাম্পত্য অধিকার (Restitution of Conjugal Rights)</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">যদি কোনো পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য মামলা দায়ের করতে চায়, তবে তা পারিবারিক আদালতে করতে হবে। এটি সাধারণত তখন হয় যখন এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ছেড়ে চলে যায় বা সঙ্গ দিতে অস্বীকার করে।</span></p>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">৩. খোরপোষ (Maintenance)</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">বিবাহিত জীবনযাপনের সময় বা বিবাহবিচ্ছেদের পরে স্ত্রীর খোরপোষ ও সন্তানের খোরপোষ সংক্রান্ত মামলা পারিবারিক আদালতে করা হয়। স্ত্রীর অধিকার অনুযায়ী, স্বামীর প্রতি তার খোরপোষের দাবি দায়ের করা যায়।</span></p>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">৪. শিশুদের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব (Custody and Guardianship of Children)</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">শিশুদের হেফাজত, অভিভাবকত্ব, এবং তাদের ভরণপোষণের জন্য মামলা করা যায়। কোন পিতামাতা বা অভিভাবক সন্তানের হেফাজত পাওয়ার অধিকারী তা নির্ধারণ করতে পারিবারিক আদালত মামলা গ্রহণ করে।</span></p>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">৫. সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ (Property Disputes)</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদের পরে সম্পত্তির বন্টন ও অধিকার সংক্রান্ত মামলা পারিবারিক আদালতে করা যায়।</span></p>
<h3 style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">৬. স্ত্রী এবং সন্তানের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা (Protection Orders)</span></h3>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: rgb(0, 0, 0);">পারিবারিক আদালত স্ত্রীর প্রতি নির্যাতন বা সন্তানের প্রতি নির্যাতনের ক্ষেত্রে সুরক্ষা আদেশ দিতে পারে। স্ত্রী বা সন্তান নির্যাতনের শিকার হলে তারা পারিবারিক আদালতে সুরক্ষা চেয়ে মামলা দায়ের করতে পারে।</span></p>]]> </content:encoded>
</item>

</channel>
</rss>