নতুন পে স্কেল: উচ্চ গ্রেডে ইনক্রিমেন্ট কমছে, বাড়িভাড়াও কমছে
নতুন পে স্কেলে ঊর্ধ্বতন গ্রেডে কম ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া ভাতার হারও কম। মূল বেতন ১০০–১৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও মোবাইল ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধায় বড় পরিবর্তন।
বিদ্যমান বেতন কাঠামোর মতো সামরিক-বেসামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার সবার জন্য সমান হার না রেখে নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চপদে ইনক্রিমেন্টের হার কমানো হচ্ছে। ফলে গ্রেডভেদে যার বেতন যতো বেশি, তার বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও ততো কম হবে। তবে প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়—-জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কিছুটা কমানো হচ্ছে।
গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকুরিজীবীরা বিদ্যমান বেতন স্কেল অনুযায়ী বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট সুবিধা পেয়ে থাকেন। নতুন পে স্কেলে এই অভিন্ন হারের বদলে গ্রেডভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন ইনক্রিমেন্ট হার চালু করা হচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে ২০তম গ্রেড থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেডে কর্মরতদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর উপরের গ্রেডগুলোতে ইনক্রিমেন্টের হার পরযায়ক্রমে কমানো হচ্ছে। ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ইনক্রিমেন্টের হার হবে ৪ শতাংশ। ৪র্থ ও ৩য় গ্রেডভূক্তদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হবে ৩.৫ শতাংশ এবং ২য় গ্রেডে কর্মরতরা বার্ষিক ২.৭৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন।
একই নীতি প্রযোজ্য হবে সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রেও। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদবিতে কর্মরতদের ইনক্রিমেন্টের হার হবে ৫ শতাংশ। তবে মেজর পদের জন্য ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলদের জন্য ৩.৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার হবে ২.৭৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনা—যা প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল—নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করা হবে।
১৯৭৩ সাল থেকে মোট ৮টি পে-স্কেল বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার। সাধারণত ৫-৭ বছর পর পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে ২০১৫ সালে বিদ্যমান বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময় সবার জন্য ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিধান চালু করে বলা হয়েছিল যে, বাংলাদেশে আর কোন পে-কমিশন গঠনের প্রয়োজন হবে না।
তখন বলা হয়েছিল, কোনো বছর মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের বেশি হলে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে ইনক্রিমেন্ট বাড়ানো হবে। তবে তা কখনো কার্যকর করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়।
বাড়ি ভাড়া ভাতা
২০১৫ সালের বিদ্যমান পে স্কেল অনুযায়ী, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকুরিজীবীরা গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা পান। নতুন পে স্কেলে এই হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মূল বেতনের তুলনায় বাড়ি ভাড়ার হার কমলেও— গ্রেডভেদে মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়ায় বাড়িভাড়া ভাতাও বাড়বে।
বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন ছাড়া দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকা ও সাভার উপজেলার জন্য এখন গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাড়ার হার মূল বেতনের ৪০–৫৫ শতাংশ। নতুন বেতন স্কেলে এসব এলাকায় কর্মরতরা বাড়িভাড়া ভাতা হিসেবে মূল বেতনের ৩০–৫০ শতাংশ পাবেন।
একইভাবে, নতুন বেতন কাঠামোতে ঢাকাসহ দেশের সকল সিটি করপোরেশন ও সাভার উপজেলার বাইরে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার হার হবে মূল বেতনের ২৫–৪৫ শতাংশ, যা এখন আছে ৩৫–৫০ শতাংশ।
উচ্চতর গ্রেড সুবিধা
বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, কোনো চাকুরিজীবী একই বেতন গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার সময় দুই বছর কমিয়ে ৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পদোন্নতি ছাড়া দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার ক্ষেত্রে—এখনকার মতোই ৬ বছর একই গ্রেডে চাকরির শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।
পদোন্নতিযোগ্য কোনো পদে কর্মরতদের ক্ষেত্রে পদোন্নতি ছাড়া এভাবে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হওয়ার সুযোগ—তাঁরা চাকুরিজীবনে দুইবারের বেশি পাবেন না। অর্থাৎ, যেসব পদ থেকে পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ থাকলেও যদি কেউ পদোন্নতি না পান, তাহলে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি মোট উচ্চতর দু'টি গ্রেডে পৌঁছাতে পারবেন।
তবে যেসব পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতির কোন বিধান নেই এবং ব্লকড পদ হিসেবে ঘোষিত, ওইসব পদে কর্মরতরা সমগ্র চাকরিজীবনে মোট তিনবার উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হতে পারবেন। এর মধ্যে প্রথম ৮ বছর চাকরি করার পর একবার, পরবর্তী ৬ বছর চাকরি করার পর দ্বিতীয়বার এবং তার পরবর্তী ৮ বছর চাকরি করার পর তৃতীয়বার উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হবেন।
চিকিৎসা ভাতা
বর্তমান বেতন কাঠামোতে সব কর্মচারীর জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সের পেনশনারদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ২,৫০০ টাকা নির্ধারিত আছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে গ্রেড নির্বিশেষে ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকুরিজীবীদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত, তারা মাসে ৪,০০০ টাকা চিকিৎসাভাতা পাবেন। অন্যদিকে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনভোগীরা মাসে ৫,০০০ টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা ৬,০০০ টাকা করে পাবেন।
মোবাইল ভাতা
নতুন পে স্কেলে প্রথমবারের মতো সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ফোন ভাতা দেবে সরকার।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ১ম-৩য় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং ৪র্থ ও ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১,০০০ টাকা মোবাইল ফোন বিল পেয়ে থাকেন। অন্যান্য গ্রেডের কেউ মোবাইল ফোন বিল পান না।
নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম-৫ম গ্রেডভুক্তদের মাসিক মোবাইল ভাতা কমিয়ে ৫০০ টাকা হচ্ছে। এ ছাড়া ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডভুক্তদের জন্য মাসে ১৫০ টাকা করে ভাতা দেবে সরকার।

অন্যান্য ভাতা
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন কাঠামোতে যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা ও ধোলাই ভাতা দ্বিগুণ বা তার বেশি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যমান পে স্কেলে যাতায়াত ভাড়া মাসে ৩০০ টাকা আছে, নতুন স্কেলে যা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হচ্ছে। টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হচ্ছে। এছাড়া, বর্তমানে কর্মচারীরা ধোলাই ভাতা হিসেবে মাসে ১০০ টাকা করে পাচ্ছেন, নতুন বেতন কাঠামোতে এটি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে বিদ্যমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ পাচ্ছেন। এটি কমিয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের জন্য পাহাড়ি ভাতা—মূল বেতনের ২০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। তবে পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য এর সর্বোচ্চ সীমা হবে ৫,০০০ টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য ৫,৫০০ টাকা।
হাওর, দ্বীপ ও চরভাতা হিসেবেও মূল বেতনের ২০ শতাংশ হার অপরিবর্তিত রেখে সর্বোচ্চ সীমা ৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক এন্ড সিকিউরিটিজ এলাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ও ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান হার ও পরিমাণ বহাল রাখা হবে।
ঝুঁকি ভাতা
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের জন্য মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে ঝুঁকি ভাতা চালু করেছিল সরকার। পরবর্তীতে তা অন্যান্য সংস্থাতেও সম্প্রসারিত হয়।
২০১৫ সালের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময় তার আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী পদভিত্তিক যিনি যে পরিমাণ অর্থ ঝুঁকিভাতা পেতেন, তাই বহাল রাখা হয়। গেজেটেও উল্লেখ ছিল যে, মূল বেতনের অনুপাতে ঝুঁকিভাতা দেওয়া হবে না বলে।
এবার নতুন বেতন কাঠামোতে ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন রকমের বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান ভাতার ওপর ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। একইভাবে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতাও শতকরা হারে না দিয়ে টাকার অংকে নির্ধারিত আছে। নতুন বেতন কাঠামোতে এটি মূল বেতনের ১০ শতাংশ করা হতে পারে।
সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো
জাতীয় বেতন কাঠামো, ২০২৬ এর গ্রেডভিত্তিক বেতন ও বেতন ধাপগুলো অনুসরণ করে—সশস্ত্র বাহিনীর সকল কোরে মোট ১৭টি ও সমতুল্য পদবির বেতন স্কেল গ্রেড-১ হতে গ্রেড-১৮ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হতে পারে। এক্ষেত্রে নন-কমব্যাট্যান্ট (এনরোল্ড) বা এনসি (ই) ও সমতুল্য পদবির প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১,০০০ টাকা এবং মেজর জেনারেল ও সমতুল্য পদবির নির্ধারিত বেতন হবে জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-১ এর অনুরূপ ১,৫৬,০০০ টাকা।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমমানের পদবির জন্য জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-২ এবং কর্নেল ও সম পদমর্যাদাভুক্তদের গ্রেড-৩ এর প্রারম্ভিক ধাপে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
বিমান বাহিনীর ফ্লাইং পে (উড্ডয়ন ভাতা) বিদ্যমান হারের চেয়ে ১০০ থেকে ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কমান্ড, স্টাফ, টিচিং, কোয়ালিফিকেশন, ডিস্টার্বেন্স এবং বিশেষজ্ঞ বেতন– প্রতিটিতে ১০ শতাংশ করে বাড়ানো হতে পারে।
এ ছাড়া, দক্ষতা বেতন, নিযুক্তি বেতন, প্যারাসুট বেতন, কমান্ডো/স্নাইপার, সোয়াডস/স্কুবা ডাইভিং বেতন ও সদাচরণ বেতনে বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি হতে পারে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ৮১ ধরণের ভাতা পর্যালোচনা করেছে সচিব কমিটি। এর মধ্যে অফিসার ও সদস্যদের জন্য প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ভাতা, শিক্ষকতা ভাতাসহ—বেশিরভাগ ভাতা বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। জরিপ ভাতার পরিমাণ বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ।
তবে বাড়িভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাড়া, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, উৎসব ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, নববর্ষ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ হবে।
পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে খরচ হবে ২.৩৭ লাখ কোটি টাকা
অর্থ মন্ত্রণালয় বর্তমানে বেতন কাঠামোর গেজেট প্রণয়নের কাজ করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এবছরের জুলাই এবং আগামী ডিসেম্বর ও আগামী জুলাইতে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার পর—২০২৮ সালের জানুয়ারিতে সব ধরনের ভাতা পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এতে তিন বছরে মোট ১ লাখ ৫,৩৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে, যার মধ্যে চলতি বছর অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩৭,৩৭২ কোটি টাকা, ২০২৭ সালে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৪৪,৮৩৮ কোটি টাকা এবং ২০২৮ সালে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ২৩,১৭০ কোটি টাকা।
বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর বেতন, ভাতা, পেনশন, আনুতোষিক ও লাম্পগ্রান্টে মোট ব্যয় হতো ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে এবার ব্যয় হবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এখাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এবং পরের অর্থবছরে সব ভাতা বাস্তবায়ন হলে বেতন, ভাতা, পেনশন এবং আনুতোষিক ও লাম্পগ্রান্টে সরকারের ব্যয় হবে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যায়ে পে-স্কেল, গেজেট প্রকাশ নিয়ে জটিলতা
— এখানে দেখুন
নিউজের সূত্র:— tbsnews







মতামত
মন্তব্য করার জন্য অনুগ্রহ করে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।