তেলাপোকা ঘরে এলো কীভাবে, ‘চায়না তেলাপোকা’ কি সত্যিই চীনের?

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ - বিকাল ৬:৪৯
৩ মিনিট পড়ুন
১৬৬
তেলাপোকা ঘরে এলো কীভাবে, ‘চায়না তেলাপোকা’ কি সত্যিই চীনের?
তেলাপোকা ঘরে এলো কীভাবে, ‘চায়না তেলাপোকা’ কি সত্যিই চীনের? ছবি: এশিয়ান সময়

মানুষের বসতবাড়িতে তেলাপোকার উপস্থিতি যেন নিত্যদিনের ঘটনা। কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে থাকা এই প্রাণী কীভাবে মানুষের ঘরের বাসিন্দা হলো?

রান্নাঘরের অন্ধকার কোণ, আলমারির চিপা কিংবা বাথরুমের ড্রেন—মানুষের বসতবাড়িতে তেলাপোকার উপস্থিতি যেন নিত্যদিনের ঘটনা।

Advertisement
Advertisement

 কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে থাকা এই প্রাণী কীভাবে মানুষের ঘরের বাসিন্দা হলো, আর বাংলাদেশে পরিচিত ‘চায়না তেলাপোকা’ আসলে কোথা থেকে এসেছে—তা নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য।

২০২৩ সালের একটি গবেষণায় বাংলাদেশে চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আটটি তেলাপোকা প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে আমেরিকান, ব্রাউন, অস্ট্রেলিয়ান ও জার্মান ককরোচ উল্লেখযোগ্য।

২০২৫ সালের আরেক গবেষণায় ঢাকার বাসাবাড়ি ও হাসপাতালগুলোতে জার্মান ককরোচের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি বলে উঠে আসে।

তবে নামের সঙ্গে মিল থাকলেও ‘জার্মান ককরোচ’ জার্মানির আদি প্রাণী নয়। ২০২৪ সালের একটি জিনোমিক গবেষণা অনুযায়ী, Blattella germanica-এর উৎপত্তি প্রায় ২,১০০ বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ায়—সম্ভবত ভারত বা মিয়ানমার অঞ্চলে।

 পরে মানুষের বাণিজ্য, যাতায়াত ও পণ্যবাহী জাহাজের মাধ্যমে এটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে ছোট আকারের এই তেলাপোকাকেই অনেক সময় ‘চায়না তেলাপোকা’ বলা হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এটি চীনা তেলাপোকা নয়। প্রকৃত Chinese cockroach বা Eupolyphaga sinensis সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রজাতি, যা চীনে ঐতিহ্যবাহী ওষুধে ব্যবহৃত হয়।

Advertisement
Advertisement

একইভাবে ‘আমেরিকান ককরোচ’ বা তেলাপোকা ও আমেরিকার আদি প্রাণী নয় বলে ধারণা করা হয়। মানুষের বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের পথ ধরেই বিভিন্ন তেলাপোকা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ, তেলাপোকার বিশ্বভ্রমণের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মানুষই।



ফটো কার্ড প্রিন্ট সংস্করণ

? কয়েকটি প্রশ্ন উত্তর

উত্তর: ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় বাংলাদেশে চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আটটি তেলাপোকা প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে আমেরিকান, ব্রাউন, অস্ট্রেলিয়ান ও জার্মান ককরোচ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উত্তর: ২০২৫ সালের আরেকটি গবেষণায় ঢাকার বাসাবাড়ি ও হাসপাতালগুলোতে তেলাপোকার উপদ্রব নিয়ে তথ্য উঠে আসে। এই গবেষণায় দেখা যায় যে, সেখানে জার্মান ককরোচের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
উত্তর: নামে জার্মানি থাকলেও জার্মান ককরোচ জার্মানির আদি প্রাণী নয়। ২০২৪ সালের জিনোমিক গবেষণা অনুযায়ী ব্লাটেলা জার্মানিটিকা (Blattella germanica) নামের এই প্রজাতির উৎপত্তি প্রায় ২,১০০ বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ায়, যা সম্ভবত ভারত বা মিয়ানমার অঞ্চল। মানুষের বাণিজ্য ও যাতায়াতের মাধ্যমে এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তর: বাংলাদেশে ছোট আকারের জার্মান ককরোচকে অনেক সময় ভুলবশত ‘চায়না তেলাপোকা’ বলা হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে এটি চীনা তেলাপোকা নয়। প্রকৃত চাইনিজ তেলাপোকা বা ইউপলিফাগা সায়েনেসিস (Eupolyphaga sinensis) সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রজাতি, যা চীনে ঐতিহ্যবাহী ওষুধে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
উত্তর: বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির তেলাপোকা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে মানুষের সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে। মানুষের বাণিজ্য, যাতায়াত এবং পণ্যবাহী জাহাজের মাধ্যমে মূলত আমেরিকান এবং জার্মানসহ বিভিন্ন তেলাপোকা বিশ্বজুড়ে বিস্তার লাভ করেছে।
Like
০%
Love
০%
Funny
০%
Sad
০%
Angry
০%

মতামত

এখনো কোনো মতামত দেওয়া হয়নি।