ভোল পাল্টে স্থানীয় সরকারে সুবিধাভোগী কর্মকর্তা সগির হোসেন

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ - রাত ৯:১৬
 871
ভোল পাল্টে স্থানীয় সরকারে সুবিধাভোগী কর্মকর্তা সগির হোসেন

চাকুরী জীবনের ২০ বছরের ১৯ বছরই ছিলেন ঢাকা বিভাগে কর্মরত। পদ্মা সেতু প্রকল্পে শেখ হাসিনার সাথে কাজ করতে পেরে হয়েছিলেন 'যারপরনাই' আনন্দিত।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী ও ভিআইপিগণকে প্রটোকল দিয়ে আনন্দ পেয়ে সেটি প্রকাশ করতেন ফেসবুকে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তা ভোল পাল্টে এখন দাবী করছেন বঞ্চিত।

স্থানীয় সরকারে মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পদায়নও নিয়েছেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার নাম মো: সগীর হোসেন। উপসচিব থেকে এই কর্মকর্তা সম্প্রতি যুগ্মসচিব পদোন্নতিও পেয়েছেন ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৬ সালে এই কর্মকর্তা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেছেন। এরপর তাকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়। সেখানে সাড়ে তিন বছর কাজ করার পর নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়। এরপর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), শরীয়তপুর জেলা প্রশসাকের কার্যালয়েল সিনিয়র সহকারি কমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ২০১৫ সালে ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলী করা হয়। এর এক বছরের মাথায় আবারও শরীয়তপুরের গোসাইর হাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন হন এই কর্মকর্তা। এরপর আইএমইডি, মাদারীপুরের এডিসি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, শিল্পকলা একাডেমী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এই কর্মকর্তা বাগিয়ে নেন উপসচিব পদোন্নতি। এরপর দুই বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পদায়ন নিয়ে থিত হয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগে।


এই কর্মকর্তার পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি নথিতে দেখা গেছে বরগুনার তৎকালীন জেলা প্রশাসনক মোস্তাইন বিল্লাহ'র ২০২০ সনের ১২ অক্টোবর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে লিখেছেন, ''রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততা নেই। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থক মর্মে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থক মর্মে জানা যায়। প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নয় মর্মে জানা যায়। তার ছোট ভাই মোঃ মনির হোসেন বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এবং বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের পদধারী মর্মে জানা যায়। প্রার্থী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থক মর্মে জানা যায়। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থক মর্মে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান।''

২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর এই কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে প্রটোকল দিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করে ফেসবুকে লেখেন, ‘''মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদ্মাসেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকালীন সময়ে শরীয়তপুর জেলায় এনডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এনডিসি হিসেবে এসএসএফ এর সাথে অনেক কাজ করতে হয়। সে সুবাদে সেতু এরিয়ায় প্রতিদিন দু'তিন বার যেতে হতো এবং প্রোগ্রাম সফল হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সরাসরি ধন্যবাদ জানিয়েছিলো। আমরা 'যারপরনাই' আনন্দিত হয়েছিলাম। এভাবে সেতু উপলক্ষে মাননীয় মন্ত্রী ও ভিআইপি গন কে বহু বার প্রটোকল দিতে যেয়ে কিছুটা হলেও কাজ করতে পেরে আজ আনন্দিত। (নোট: সগির হোসেন এর ফেইজবুক থেকে নেয়া)।

সৃষ্টি কর্তার অশেষ রহমতে ২০১৭ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের আইএমইডি ডিভিশনে পোস্টিং হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আইএম ইডির সচিব মফিজুল ইসলাম স্যারকে সেতুর ডিটেইলস নিয়ে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। সৌভাগ্য বসত রিপোর্ট তৈরির জন্য সচিব স্যারের সাথে আমি ও পিএস মহোদয় সেতু এরিয়ায় কয়েক বার যাই। সেখানে কনসালটেন্ট সহ ঊর্ধতন কর্মকর্তারা আমাদের যাবতীয় কার্যক্রম দেখান তার ভিত্তিতে সচিব স্যার রিপোর্ট তৈরি করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট জমা দেন। তারপর শেষ চৌদ্দ টি পিলারের কার্য ক্রম শুরু ও শেষ হয়। একই ভাবে ২০১৮ সালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে মাদারীপুর জেলায় যোগদান করি এবং সেখানে থেকেও সেতুর জন্য কাজ করেছি কমপক্ষে পঁচিশ বার সেতু এরিয়ায় এসেছি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সগির হোসেনের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি বিগত বছরে প্রশাসনে বেশ সুবিধাভোগী ছিলেন। তাদের দাবী তিনি সুকৌশলে প্রশাসনে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি বঞ্চিত হিসেবে উল্লেখ করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ সগির হোসেন এর বক্তব্য একাধিকবার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।