দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার শফিকুর রহমানের

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - রাত ১১:৩৭
 0  109
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার শফিকুর রহমানের

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নওগাঁর এটিএম মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।

দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াত কখনো চাঁদাবাজি করে না এবং ভবিষ্যতেও কাউকে তা করতে দেবে না। আমরা দুর্নীতিকে ঘৃণা করি এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে আমাদের ছত্রচ্ছায়ায় আশ্রয় দেব না।” তিনি আরও যোগ করেন, ব্যাংক ডাকাতদের সাথে জামায়াতের কোনো আপস নেই। পাশাপাশি মামলা দিয়ে হয়রানির সংস্কৃতি বা মামলা-বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংখ্যালঘু ও নাগরিক অধিকার দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর জোর দিয়ে আমির বলেন, কোনো নাগরিক যেন ‘ভয়ের সংস্কৃতিতে’ না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি সাবেক সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “যারা মাইনোরিটি অধিকার নিয়ে কথা বলতেন, তারা সাঁওতালপল্লিতে কী অমানবিক আচরণ করেছেন তা দেশবাসী দেখেছে। আমরা সবাইকে ভাই-বোন হিসেবে বুকে টেনে নিয়ে সামনে এগোতে চাই। এ দেশ আমাদের সবার।”

নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল ও বাসস্থানের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ঘরে বা বাইরে মায়েদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ। কোনো জালিম যেন নারীদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়, তেমন পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। গত জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মা-বোনদের অপমানের প্রতিশোধ নিতে এ দেশের যুবসমাজ সবসময়ই প্রস্তুত।

তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব ও উন্নয়ন রাজনীতিতে বংশপরম্পরার অবসান ঘটিয়ে মেধার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জমিদারি প্রথার রাজনীতি ভেঙে আমরা এমন এক পরিবেশ চাই যেখানে একজন শ্রমজীবী মানুষের সন্তানও মেধার যোগ্যতায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।” বিগত ৫৪ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন অনেকেই কেবল নিজেদের পকেট ভারী করেছেন, ব্যাংক লুট করেছেন এবং মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। দুর্নীতির সেই টাকা দেশে ফেরত আনার সংকল্পও প্রকাশ করেন তিনি।

পরিশেষে, আসন্ন নির্বাচনকে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।