বরগুনায় বিএনপির কর্মী সমর্থক দ্বারা হামলার প্রতিবাদে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
বরগুনায় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাবেশে যাওয়ার পথে বাঁধা ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিকেল সাড়ে ৩টায় বরগুনা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরগুনা ২ আসনে জামায়াত মনোনিত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি’র ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পাথরঘাটায় ১১ দলীয় জোট আয়োজিত শেষ নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার জনসভায় যেতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাঁধা দেয়। পাশাপাশি দেশীয় অস্র দিয়ে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এতেহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরে চলা এসব অপ্রীতিকর ঘটনায় আগামীর ভোট নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত জোট মনোনিত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ০৯ ফেব্রুয়ারী বরগুনা-২ আসনের দাড়িপাল্লার প্রার্থী হিসেবে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে পাথরঘাটা উপজেলা শহরের কেএম লতিফ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। আমার পক্ষে গণ জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে দেখে আমার বিরোধী পক্ষ ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি সাহেব তার দলীয় ও নির্বাচনী কর্মী দিয়ে পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রিজের গোড়ায়, বাইনচটকি ফেরী ঘাটে ও কাটাখালী মোড়ে, কাকচিড়া বাজার সংলগ্ন ব্রিজের গোড়ায়, বিশ্ব রোডের সিএন্ডবি মোড়ে, বিশ্ব রোডের নাচনাপাড়া বটতলায়, বিশ্ব রোডের নাচনাপাড়া বাশতলা ব্রিজের উপর, বিশ্ব রোডের কাঠালতলী ইউনিয়নের কেরামতপুর বাসস্ট্যান্ড সোলায়মান সাদিকের বাড়ি সামনে, তুরাগ পেট্রোল পাম্পের সামনে, কাঠালতলী ইউনিয়ন পরিষদ বাজারে, কাঠালতলী কলেজ সংলগ্ন রাজার (২নং ওয়ার্ড), তালুকের চরদুয়ারী, আস্তাইন বাড়ী মোড়ে, সদর ইউনিয়নের টেংড়া বাজার, চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফার হাট বাজার, চরদুয়ানী ইউনিয়নের মুন্সির হাট ও মাছেরখাল বাজার, চরদুয়ানী বাজার ও তৎ সংলগ্ন তালুকের চরদুয়ানী খেয়াঘাট বাজার ও রায়হানপুরের লেমুয়া বাজার সহ বহু স্থানে আমার জনসভায় আসতে থাকা জনসাধারণকে দলবদ্ধ ভাবে বাঁধা দেয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক আকারে মারপিট করে। তাদের হামলায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু মারাত্মক ভাবে আহত হন। অপর দিকে আমার নির্বাচনী কর্মী ফেরদাউস, সাব্বির, রাজু, মাহমুদ সহ অসংখ্য লোক ও পথচারী আহত হন। যাদের অনেকে পাথরঘাটা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়াও সংবাদ সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে বাঁধা প্রদান করা হয়।
ওই প্রার্থী আরও অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার বিষয় তাৎক্ষণিক পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালে তার মাধ্যমে কোন প্রতিকার না পেলে ৯৯৯ এ কল দেই। সেখানেও থানা কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা নির্বাচনী আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘনের ফলে ভোটারদের মধ্যেও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংচেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার বিষয় আমি শুনেছি। কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনাকে কেন বলব? এটা আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।