পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের প্রতিবাদ না করলে দেশ পরনির্ভরশীল হয়ে পরবে

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ - রাত ৮:২৭
 0  244
পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের প্রতিবাদ না করলে দেশ পরনির্ভরশীল হয়ে পরবে

সমন্বিত উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের প্রতিবাদ করে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। তা নাহলে ক্রমান্বয়ে পরিবেশ ধংস হয়ে যাবে। আমরা পরনির্ভরশীল হয়ে পরবো।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৪ টার দিকে পায়রা নদীর পাড় বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটায় পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম প্রতিবাদে এবং বরগুনা তালতলী পাথরঘাটা উপকূলীয় জেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার রক্ষার দাবিতে গণসমাবেশে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), বরগুনা জেলে কৃষক সমন্বয় পরিষদ, লতাকাটা জেলে সমিতি ও একতা ক্লাবের আয়োজনে এমনটাই দাবি করেন পরিবেশকর্মীরা।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) বরগুনা জেলা সদস্য সচিব মুশফিক আরিফের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল, বিশেষ অতিথি ছিলেন, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা'র সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ, ঈশ্বরদী সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক ডাইরেক্টর জেনারেল ড. খলিলুর রহমান, বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন হাসান শাহিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কৃষক ও জেলে নেতা। জনসমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ধরার বরগুনা জেলা আহ্বায়ক ডা.আজমেরী বেগম।

শরীফ জামিল বলেন, 'মাছের নদী, সাগরে কেন মাছ থাকবে না, কৃষি এলাকায় কেন কৃষি হয় না, নারিকেল গাছে কেন নারিকেল হয়না এ জন্য কারা দায়ী। যাদের এর প্রতিবাদ করার কথা তারাই ধংস করেছে। পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের প্রতিবাদে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে কৃষক ও জেলেদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এক বছর আগে ১ হাজার টাকার মাছ এক বছর পরে তিন হাজার টাকা। কেন মাছ এখন কম, এগুলো আমাদের ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। আমরা যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ না করি, আমরা যদি পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের প্রতিবাদ না তাহলে আমরা পরনির্ভরশীল হয়ে পরবো।'

বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন হাসান শাহিন বলেন,' অপরিকল্পিত তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমাদের জন্য দানব হিসেবে রুপান্তর‌ হয়েছে। বিগত সরকার উন্নয়ন করেছে দলের এবং নেতাদের। দেশের কোন উন্নয়ন করেনি। '

জেলে নেতা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, 'আমরা জেলে এবং কৃষকরা খুব কষ্টে আছি। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আমাদের মরনদশা হয়ে গেছে। এখন নদীতে মাছ নাই, নদী ভরাট হয়ে গেছে। নদীগুলো খনন করতে হবে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারনে আমরা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে।'


জনসমাবেশ স্থলে কয়েক হাজার কৃষক, জেলে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ স্থলে 'প্রান্তিক কৃষকের দাবি মানলে উন্নয়ন সুষম হয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবর্জনা মরছে মাছও, মরছে পোনা, কীটনাশকের ব্যবহার রোধ করো সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার নিশ্চিত কর, ১০০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর কর, কার্বন নিয়ন্ত্রণ একটি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া নদী পুনরুদ্ধার করো, জেলেদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করো' বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।