বরগুনায় চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক; আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ড
বরগুনায় বসতঘরে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন ইমাম হোসেন (২০) নামে এক যুবক। পরে পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান।
একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বরগুনা থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নং-১০৫-এর সূত্রে এসআই (নিঃ) সাইফুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মোবাইল-১ ডিউটিতে বের হন। ওইদিন আনুমানিক রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর আসে, বরগুনা থানাধীন ২ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর ধুপতি এলাকায় মো. রুহুল আমিন আকনের বসতঘরে চুরি করতে গিয়ে এক যুবক স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আটক যুবক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে এসআই সাইফুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক নিজের নাম ইমাম হোসেন (২০) এবং পিতা মো. মজিবর শিকদার বলে পরিচয় দেন। তার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুয়া এলাকায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম হোসেন জানান, তিনি চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং আলমারি থেকে বিভিন্ন মালামাল বের করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করেন এবং ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
পরে আটক ইমাম হোসেনকে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সশরীরে হাজির করা হয়। আদালতে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৪৫৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়।
শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান আসামি ইমাম হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদাত মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।