ইরানের প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে

২০ মে, ২০২৪ - দুপুর ১২:০৩
 0  937
ইরানের প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে

রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি হেলিকপ্টার ইরানের পার্বত্য উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই একটি কুয়াশা-ঢাকা বনে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে এবং জনসাধারণকে প্রার্থনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব

গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আব্দোল্লাহিয়ান। তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং ফোনালাপের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করছিলেন। মিত্র দেশ ছাড়াও পশ্চিমা দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ইরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনির অধীনে পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

ইরান গত মাসে ইসরায়েলের উপর একটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সম্ভাব্য বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অস্ত্র-গ্রেডের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এ ঘটনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট রাইসি এবং সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পড়েছে। ইরান বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট এবং মহিলাদের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভের সম্মুখীন।

দুর্ঘটনার বিবরণ

রাইসি ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে একটি সরকারি সফরে ছিলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি "হার্ড ল্যান্ডিং" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার (৩৭৫ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে আজারবাইজান সীমান্তবর্তী শহর জোলফার কাছে ঘটেছে। পরে রাষ্ট্রীয় টিভি দুর্ঘটনাস্থল উজি গ্রামের কাছে উল্লেখ করে, তবে বিবরণে কিছুটা পার্থক্য ছিল।

উদ্ধার অভিযান

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার খবরটি এসেছে হেলিকপ্টার থেকে আসা এক জরুরি ফোনকলে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারা ওই ফোনকল করেছিলেন, তবে কথা শেষ হওয়ার আগেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশার কারণে ওই এলাকায় পাঁচ মিটারের বেশি দূরত্বে কিছু দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উদ্ধার অভিযানে যুক্ত কর্মকর্তারা।

জনসাধারণের উদ্বেগ

ইরানের জনসাধারণ এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রার্থনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। ইরানের এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।