সেন্ট মার্টিনের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, জানালো পরিবেশ মন্ত্রণালয়

৯ আগস্ট, ২০২৫ - সকাল ১১:৫৩
 0  2.5k
সেন্ট মার্টিনের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, জানালো পরিবেশ মন্ত্রণালয়

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সংরক্ষণে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এর সঙ্গে দ্বীপের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

শুক্রবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দ্বীপের প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারে পর্যটন নিয়ন্ত্রণসহ নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের শপিংমলগুলোতে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার বন্ধ, অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ, সীসা কারখানা বন্ধ, শব্দদূষণ রোধে তরুণদের সম্পৃক্তকরণ এবং পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ সরবরাহে যৌথ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ঢাকার সাভার ও আশুলিয়াকে ‘দূষিত বায়ুমণ্ডল’ এলাকা ঘোষণা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গাজীপুরের গাছা খাল দূষণকারী নয়টি কারখানার সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কক্সবাজার ও সোনাদিয়ায় ১০ হাজার ৩২২ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, পূর্বাচলের ১৪৪ একর জমি বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি চারা উৎপাদন ও রোপণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধার এবং হাতির চলাচলের পথ তৈরির কাজ চলছে।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় ১৫৯টি ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’ গঠন, দেশীয় ময়ূর পুনঃপ্রবর্তন, বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ এবং জলাভূমিকে অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৯৩টি অভিযানে ৫ হাজার ৬৮৪টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় উদ্যান ও ইকোপার্কে প্লাস্টিক ব্যবহার এবং পিকনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ৩৫১ কোটি টাকার ৪১টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ’ও চূড়ান্ত হয়েছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মতে, এসব উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে এবং জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।