স্ত্রী তালাক দিলেও কি দেনমোহর দিতে হয়? জানুন আইনের বিধান
বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রী তালাক দিলে দেনমোহর, ভরণপোষণ ও তালাক কার্যকরের নিয়ম কী—জানুন বিস্তারিত। পাশাপাশি জাল কাবিননামা তৈরি, আইনি শাস্তি ও দণ্ডবিধির গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো সম্পর্কেও তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্ত্রী যদি বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক দিতে চান, তাহলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে যদি স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া থাকে, তাহলে তিনি সরাসরি তালাকের নোটিশ দিতে পারেন। আর যদি এ ক্ষমতা না দেওয়া থাকে, তাহলে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে তালাকের ডিক্রি নিতে হয়।
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, তালাক কার্যকর করতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হয় এবং অপর পক্ষকেও সেই নোটিশের কপি দিতে হয়। চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়। এই সময়ের মধ্যে সালিসি পরিষদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।
অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে স্ত্রী যদি নিজে থেকে তালাক দেন, তাহলে দেনমোহর পরিশোধ করতে হয় না। বাস্তবে এটি সঠিক নয়। স্ত্রী তালাক দিলেও স্বামীর ওপর দেনমোহর পরিশোধের দায়িত্ব বহাল থাকে। কাবিননামায় উল্লেখিত দেনমোহরের পরিমাণ অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে হয়। যদি কাবিনে উল্লেখ থাকে যে দেনমোহরের একটি অংশ আগে পরিশোধ করা হয়েছে, তাহলে অবশিষ্ট অংশ পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি বকেয়া ভরণপোষণ এবং ইদ্দতকালীন ভরণপোষণও প্রাপ্য হতে পারে।
যদি কোনো ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে কাবিননামা পরিবর্তন বা ভুয়া নিকাহনামা তৈরি করেন, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা যেতে পারে।
দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারায় জালিয়াতির শাস্তি হিসেবে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া ৪৬৬ ধারায় আদালতের নথি, সরকারি রেজিস্টার, বিয়ে বা জন্মসংক্রান্ত নথি জাল করার অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। এ ধরনের অপরাধ গুরুতর এবং অনেক ক্ষেত্রে জামিনযোগ্য নয়।
তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূল কাবিননামা, নোটিশের কপি এবং অন্যান্য প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে পারিবারিক আদালত বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত, যাতে আইন অনুযায়ী সঠিক প্রতিকার পাওয়া যায়।