৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯শত টাকার কাজে কোটি টাকা আত্মসাৎ! সংবাদ সম্মেলন মিথ্যা দাবী করে সংবাদ সম্মেলন
বরগুনার বামনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তাযা আহসান মামুন এর ছেলে সৈয়দ নাহিন আহসানের বিরুদ্ধে কোটি আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।
০২ মার্চ (সোমবার) বামনা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে কয়েকজন ব্যবসায়ী এসব অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে ০৩ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকাল সাড়ে ৪টায় তার নিজ বাড়িতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন সৈয়দ নাহিন আহসান।
সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ৫ আগষ্টের পর বামনার ফুটপাত দখলের রাখা ব্যবসায়ীদের নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বাজার কমিটি বৈঠক ডাকে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সেখানে উপস্থিত রাখে। বৈঠকটি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত ছিলেন। ‘ফুটপাত দখল করা যাবে না’ এই সিদ্ধান্ত হলে বামনা বাজারে অবস্থিত সাহেববাড়ি বাজার নামক স্থানে ফাঁকা জায়গাটি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত স্থানে ব্যবসায়ীদের বসার জন্য উপযুক্ত করতে বালু ভরাট ও সেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বালু ভরাট ও সেট নির্মাণে ব্যবসায়ীদের নিকট হইতে ১৩ হাজার টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু হয়। মোট ৩০ জন ব্যবসায়ীর সেখানে ব্যবসা করবেন। ২৯ জন ব্যবসায়ীর নিকট হইতে ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। যেই টাকা সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেন ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও দাবী করেন শুধুমাত্র কাজ দেখাশুনার দায়িত্বে আমি ছিলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, নির্মাণ কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯ শত টাকা। অন্য এক ব্যবসায়ী তার ভাগের ১৩ হাজার টাকা জমা দিলে সেই টাকা দিয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। হঠাৎ করে একটা পক্ষ ২ মার্চ বামনা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন ‘আমি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছি’। বিষয়টি অত্যান্ত হাস্যকর। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলেও দাবী তার। তিনি বলেন, তার বাবা জামায়াতের রাজনীতিতে যোগদানের জন্য ইতিপূর্বে তাদের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলে বামনার সর্বস্তরের জনগণ আমাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে এসব অসত্য অভিযোগ করে মানহানি করে যাচ্ছেন। ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯ শত টাকার কাজে কত টাকা আত্মসাৎ করা যায় বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে দোকান ঘরগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল। এছাড়া অন্য কোন অভিযোগ কোনদিন শুনি নাই।
২ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া ব্যবসায়ী শিবু চন্দ্র দাসের পুত্র জয় চন্দ্র দাস বলেন, কয়েকজন ব্যবসায়ী আমাকে বামনা প্রেসক্লাবে নিয়ে একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে পড়তে বলেন। আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। অন্যান্য ব্যবসায়ী পড়তে পারেন না বিধায় আমাকে পড়তে বললে আমি পড়ি। তিনি আরও বলেন, আমরা একটি দোকানের জন্য ১৩ হাজার টাকা ইউএনও অফিসে জমা দিয়েছি এবং একটি দোকান বুঝে পেয়েছি। কারা পায়নি কিংবা লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
এসব বিষয়ে বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ নিকহাত আরা এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি অভিযোগ উঠেছে। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।