জামায়াত নেতা সাঈদীকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে অসুস্থ পড়লে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে অসুস্থ পড়লে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে বিএসএমএমইউয়ে আনা হয়। তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
বিএসএমএমইউয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান রাত ১১টার দিকে জানান, তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হার্টে একটা অ্যাটাক হওয়ার বিষয় ধরা পড়েছে। ইসিজিতে দেখা গেছে ওনার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। কিন্তু এখনো পুরোপুরিভাবে বলা যাচ্ছে না অবস্থা কোন দিকে যাবে। আগেই ওনার স্টেন্ট (রিং) লাগানো আছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে এনজিওগ্রাম করে রিং বসানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তার রিং লাগবে কি না সেটি এখনো বলা যাচ্ছে না।
কারা সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বুকে ব্যথাজনিত সমস্যা দেখা দিলে তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিএসএমইউতে পাঠানো হয়। তার বুকে ব্যথা, হার্টে সমস্যা, প্রেশার ও ডায়াবেটিসজনিত কিছু সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১-এর জেল সুপার মো. শাহজাহান আহমেদ বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল ও পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে সেখানেই ভর্তি আছেন।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুটি অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনা। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় সাজাভোগ করছেন। এর আগে ২০১০ সালের ২৯ জুন রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।