উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে নড়াইল সদর অফিসপাড়ার চিত্র
নড়াইল জেলার সদর উপজেলা ৩৮১.৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল চিত্রা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। উত্তরে মাগুরা, পূর্বে লোহাগড়া ও কালিয়া এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে যশোর জেলা অবস্থিত।
এই উপজেলাই জন্ম দিয়েছে অসংখ্য গুণী ব্যক্তিত্বকে চিত্রশিল্পী এস. এম. সুলতান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ, কবিয়াল বিজয় সরকার, মোসলেম বয়াতী, মাশরাফি বিন মোর্তুজা, কৃষক নেতা নুরজালাল, মুদাসসের মুন্সি, নীহার বালাসহ বহু গুণী মানুষের পূণ্যভূমি এই নড়াইল সদর উপজেলা। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ নড়াইল মহাকুমা থেকে জেলায় রূপান্তরিত হয়।
উপজেলা পরিষদ গঠনের পর দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ভবনেই সদর উপজেলার অফিসপাড়ার সব কার্যক্রম পরিচালিত হতো। পুরনো সেই ভবনগুলোতে থেকেই উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর কাজ চালাত। তবে এখন সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। পুরাতন ভবনের স্থানে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবনসহ নানা উন্নয়নমূলক অবকাঠামো যার কাজ করছে সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি)।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলার প্রধান ফটকে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আধুনিক গেট নির্মাণ, ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরসিসি ঢালাই সড়ক তৈরি, এবং ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অফিসপাড়ার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ। গত ৩০ নভেম্বর সদ্য যোগদানকারী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন।
অফিসপাড়ার বর্তমান উন্নত চিত্র দেখে মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা এলাকার সেবাগ্রহীতা সঞ্জয় বলেন, “আগে অফিসে এলেই মনে হতো ভুতের বাড়ি, এখন মনে হয় মডেল উপজেলা।”
বাহিরগ্রাম থেকে আসা ফজিলা জানান, “বয়স্ক ভাতার অফিস খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছিল। স্যারদের বারান্দায় কাজ করতে দেখে খারাপ লেগেছিল। এখন অন্তত চেয়ারে বসে কথা বলতে পারি যা আগে পারতাম না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “আগে পিআইও অফিসের রুমগুলো যথেষ্ট ছিল না। এখন বহুতল ভবন হওয়ার সুবাদে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে যা আনন্দের।”
পিরোজপুর থেকে আসা জাকির হোসেন জানান, “বিশেষ কাজে উপজেলা নির্বাহী অফিসে এসেছিলাম, কিন্তু গেট না থাকায় চিনতে সমস্যা হয়েছিল। ৫ মাস পরে এসে দেখি আধুনিক গেট হচ্ছে এটি মানুষকে অফিস চিনতে সাহায্য করবে।”
একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা বলেন, “বাউন্ডারি না থাকায় বাইরের পশুপাখি এসে গাছপালা নষ্ট করত। সীমানা প্রাচীর হলে অফিসের নিরাপত্তা বাড়বে, গরু-ছাগল থেকে গাছপালা রক্ষা পাবে।”
উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে গেট, রাস্তা ও সীমানা প্রাচীরের কাজ করা হচ্ছে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী এস্টিমেটের মান বজায় রেখেই কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুণগত মানের অভিযোগ পাওয়া যায়, সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গেটের কাজ করছে পলাশ এন্টারপ্রাইজ, রাস্তার কাজ মোঃ সাঈদুর রহমান ভুইয়া এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ মিল্লক কনস্ট্রাকশনের ব্যানারে জিরু।