মাত্র ৩ মিনিট! অনলাইন হ্যাকিং ও ফিশিং এর শিকার হওয়া থেকে নিরাপদ থাকুন।

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - রাত ১০:৩০
 0  193
মাত্র ৩ মিনিট! অনলাইন হ্যাকিং ও ফিশিং এর শিকার হওয়া থেকে নিরাপদ থাকুন।
অনলাইন হ্যাকিং ও ফিশিং এর শিকার হওয়া থেকে নিরাপদ থাকুন

"ইন্টারনেটে অজানা ব্যক্তি বা সোর্স থেকে কোনো লিঙ্ক, ফাইল বা অফার পেলেই কি ক্লিক করছেন? সাবধান! এর মাধ্যমে মুহূর্তেই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ডিভাইস হ্যাক এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বেদখল হতে পারে। স্ক্যামারদের পাতা এই ধরনের ফাঁদ থেকে বাঁচতে কী করবেন আর কী করবেন না, বিস্তারিত জানুন এই পোস্টে। লোভনীয় অফারের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করুন এবং নিজের অনলাইন নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিন। সচেতন হোন, সুরক্ষিত থাকুন!"

এই দুনিয়ায় কেউ কাউকে ১০০ কিংবা ১০ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে দিতে চায় না। অথচ অনলাইনে বা  ইনবক্সে প্রায়ই বড় বড় “ফ্রি অফার” বা আকর্ষণীয় প্রলোভন দেখতে পাই। এটি খুবই ভাবনার বিষয়। অনলাইনের এইসব প্রলোভনের পেছনে প্রায়ই লুকিয়ে থাকে ৯৯% ঝুঁকি। (কত পারসেন্ট ঝুঁকি?)

অনেক অপরিচিত ব্যক্তি হ্যাকিং বা তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে ভুয়া মেসেজ ফাইর কিংবা, লিংক বা ফর্ম পাঠায়। তাই কখনোই—

  •  অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না করা উচিত
  • কোনো ফর্ম পূরণ না করা উচিত
  • তার পাঠানো কোনো ফাইল ডাউনলোড না করা উচিত
  • জন্ম তারিখ, পাসওয়ার্ড, OTP বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা উচিত
    এ ধরনের ফাইল ডাউনলোড করে ওপেন করলে বা লিঙ্কে ক্লিক করলে, তথ্য প্রদান করলে আপনার মোবাইল ডিভাইস, ও ডিভাইসের লগইন থাকা অ্যাকাউন্ট, এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে পারে।

? যদি কেউ আপনাকে অফার প্রস্তাব দিয়ে মেসেজ পাঠায় (যেখানে আপনি সামান্য কিছু হলেও বিনামূল্যে পাচ্ছেন), তাহলে তাকে আপনার ফোন নাম্বার দিন এবং সরাসরি ফোনে কল করে যোগাযোগ করতে বলুন। অথবা তার ফোন নাম্বার চেয়ে নিন আপনি কল করুন তার কাছে যানুন তিনি কে কেন বিনামূল্য দিচ্ছে ইত্যাদি। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো লিংক ক্লিক করা এবং কোনো ফর্ম পূরণ করা, কোন ফাইল ডাউনলোড করে ওপেন না করা ভাল। 

উদাহরণ:
ধরুন, একজন হ্যাকার প্রলোভন দেখিয়ে আপনাকে একটি লিঙ্ক পাঠাল। আপনি ক্লিক করলে সে আপনার ভিডিও ক্যাপচার করে নিতে পারে। কয়েক মাস পরে, একই ব্যক্তি ভিন্ন আইডি থেকে আরেকটি লিঙ্ক পাঠিয়ে আপনার জন্ম তারিখ বা অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। কয়েক মাস বা কয়েক বছর ধরে এভাবে আপনার কাছ থেকে বিভিন্য সমায় বিভিন্ন তথ্য তারা সংগ্রহ করে থাকে। পরবর্তীতে এই সকল তথ্য ব্যবহার করে আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এমনকি আপনার অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ বা হ্যাক করার সময় ফেস ভেরিফিকেশন চাইলে, আপনার যে ভিডিওটি আগে সে সংরক্ষণ করে রেখেছে, সেটিই ব্যবহার করে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে আপনার অ্যাকাউন্ট দখল কর নিতে পারে।
আবার ফাইল এর ক্ষেত্রে মনে করুন আপনাকে একটি ফটো পাঠিয়েছে অথবা একটি পিডিএফ পাঠিয়েছে আপনি যা আপনার ডিভাইস দিয়ে ডাউনলোড করে ওপেন করেছেন এটি ওপেন করা মাত্রই আপনার পুরো ডিভাইসটি তার নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। 

❓ লিঙ্কে ক্লিক করলে কি সত্যিই তথ্য নেওয়া যায়?

হ্যাঁ, যায়। অনেক ভুয়া ও প্রলোভনমূলক ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের উদ্দেশ্যেই হ্যাকাররা তৈরি করে থাকে। এখানে ভিজিট সরাসরি কোনো অনুমতি চায় না; যেমন ক্যামেরা এক্সেস, কন্টাক্ট নাম্বার, ফটো গ্যালারি ইত্যাদি। লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে অটোমেটিক অ্যালাউ হয়ে যায় এবং আপনার তথ্য তার নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে । এর মধ্যে থাকতে পারে ভিডিও, ডিভাইসের মডেল, লোকেশন, আইপি অ্যাড্রেস, ব্রাউজারের কুকি ও সেশন তথ্য, লগইন স্ট্যাটাস। এছাড়াও ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা গ্যালারির অ্যাক্সেসও নিতে পারে। বিশেষ করে আমাদের মোবাইলের গ্যালারিতে থাকা পাসওয়ার্ড সম্বলিত স্ক্রিনশট ফটো, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, ব্রাউজারে সংরক্ষিত লগইন সেশন বা অটো-সেভ পাসওয়ার্ড—এসব তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। মূলত এই ধরনের লিঙ্ক বা ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার উদ্দেশ্যে। 

আবার ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে মনে করুন আপনি একটি ফাইল ডাউনলোড করেছেন এবং আপনি আপনার ডিভাইস দিয়ে ওপেন করেছেন। ফাইলটি ওপেন করা মানেই অলরেডি আপনার ডিভাইস হ্যাকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। যদি নিয়ন্ত্রণে নেয় তাহলে  ডিভাইস থেকে সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিতে পারে। পাশাপাশি আপনি ডিভাইস পাশে রেখে  সর্বক্ষণ যা করছেন সে মনিটর করতে পারে। আপনি যা বলছেন তা সর্বক্ষণ অডিও আকারে তার কাছে সংরক্ষণ করতে পারে। পরবর্তীতে এই সকল ডাটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট (AI) ব্যবহার করে তার ভেতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তারা খুঁজে বের করতে পারে। এক্সামপল : আপনার মাইক্রোফোন এক্সেস নিয়ে আপনি যা বলেছেন এক বছরের সবকিছু তার কাছে রেকর্ড আকারে আছে। কোন একদিন আপনি আপনার বন্ধুর সাথে অথবা আপনার ছেলের সাথে অথবা পরিচিত কারো সাথে আপনি আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড মুখে বলেছিলেন। যে রেকর্ড  তার কাছে আছে এই হাজার হাজার ঘন্টা রেকর্ডিংয়ের ভিতর থেকে সেই অংশটুকু খুঁজে বের করা সম্ভব।

❓ এসকল লিংক বা ফাইল কি হ্যাকার নিজে পাঠায়?

 হা হ্যাকার নিজে পাঠাতে পারে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার পরিচিত ব্যাক্তি অথবা বন্ধুর মাধ্যমে আপনাকে পাঠায় যেন আপনি বিশ্বাস করেন এবং ক্লিক করেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় এই সকল লিংকে এমন ধরনের প্রলোভনের কথা উল্লেখ থাকে সেই জিনিসটি পেতে হলে লিংকে ক্লিক করতে হবে সেখানে ইনফরমেশন দিতে হবে এবং শেয়ার করতে হবে। আর এ কারণেই আপনার বন্ধু বা পরিচিত ব্যাক্তি না বুঝে আপনার কাছে শেয়ার করছে। সে যদি এই লিংকে ক্লিক করে থাকে, সে যদি এখানে ইনফরমেশন দিয়ে থাকে বা সেই ফাইলটি সে যদি ডাউনলোড করে ওপেন করে থাকে, তাহলে সে কিন্তু অলরেডি ট্রাপে পড়ে গেছে।

❓ আমি বুঝবো কিভাবে?

আপনার কাছে যে লিঙ্ক বা ওয়েব ছাইড ইউআর এল পাঠিয়েছে সেই ইউআরএল বা লিংক দেখুন একটি কোম্পানির নাম থাকবে। যেহেতু এত বড় অফার দিচ্ছে তাহলে নিশ্চয় একটি বড় কোম্পানির নাম থাকার কথা? সেই নামটি (শুধুমাত্র) সেই নামটি কপি করে গুগলে সার্চ করুন দেখুন সেই নামের বড় কোন কোম্পানি আছে কিনা। যদি ইনকামের প্রলোভন হয় তাহলে ইউটিউবের সার্চ করুন দেখবেন ইউটিউবে পেমেন্ট প্রুভের অনেক ভিডিও পাবেন। এবং কোন ডকুমেন্ট বা ফটো বা পিডিএফ ফাইল পাঠালে সেটি ভাইরাস স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করুন গুগোলে (Online virus scanner) লিখে সার্চ করলে অনেক টুল পাবেন।...)

❓ লোভনীয় অফার দেখলেই বিশ্বাস নয়। আগে যাচাই করুন, সচেতন থাকুন! তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

ধন্যবাদ।

ফ্রিল্যান্সার: সাদ্দাম হোসেন