নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তার দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

৩০ জুন, ২০২৬ - বিকাল ৫:৩৫
 1.5k
নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তার দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

নড়াইলে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা ও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিসানুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জিসানুর রহমান দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। তিনি বলেন, গত রোববার বিকেলে মাছের প্রদর্শনী সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা মৎস্য অফিসে যান। সেখানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে না পেয়ে অপেক্ষা করেন। পরে অফিসের কর্মচারী তকদির তাকে ফোন করলে কিছু সময় পর আবু রায়হান অফিসে আসেন।

জিসানের দাবি, বাঁশগ্রাম, শেখহাটি, মুলিয়া ও তুলারামপুর ইউনিয়নের জন্য চারটি প্রদর্শনীর আবেদন করানো হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রদর্শনী দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অফিস খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে একটি প্রদর্শনী দেওয়ার পর বাকি টাকা ফেরত চাইলে মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় আবু রায়হান তার সঙ্গে তুই-তুকারি করে কথা বলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি মোবাইলে কথোপকথন রেকর্ড করতে শুরু করলে অফিসের কর্মচারী তকদির বিষয়টি কর্মকর্তাকে জানায়। এরপর আবু রায়হান তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে আছড়ে ভেঙে ফেলেন বলে দাবি করেন তিনি।

জিসানুর রহমান বলেন, ফোন ভাঙার ঘটনার পর অফিসের কর্মচারী তকদির, দীপু ও জামশেদ তার সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি মারা হয় এবং পেপার ওয়েট দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করা হয়। তার গলায় থাকা প্রায় সাড়ে ছয় আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও ছিঁড়ে নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, ধস্তাধস্তির সময় মৎস্য কর্মকর্তার হাতের ধাক্কায় টেবিলে থাকা কম্পিউটার নিচে পড়ে যায়। তবে তিনি কোনো ভাঙচুর করেননি। পরে ভবনের বিভিন্ন অফিসের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জিসানুর রহমান দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, মানহানি করা হয়েছে এবং পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। অফিসের কর্মচারী জামশেদ জানান, আবু রায়হান বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।

জামশেদ সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন জিসানুর রহমান ও মৎস্য কর্মকর্তার মধ্যে কিছু সময় আলোচনা চলার পর তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে অফিসের কর্মচারীরা সেখানে যান। তার দাবি, অফিসের কেউ জিসানুর রহমানকে মারধর করেননি। বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তিনি জিসানের আনা অভিযোগও অস্বীকার করেন।

তবে মোবাইল ফোন ভাঙার অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান জিসানুর রহমানের আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। নিজেকে বাঁচানোর জন্যই তিনি এসব অভিযোগ তুলছেন।”

৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি যদি টাকা দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই টাকার রসিদ, নথি বা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করুন। কবে, কীভাবে এবং কোন মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে তার প্রমাণ দেখাতে হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি কাজের জন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। প্রদর্শনী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই পরিচালিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বাদী হয়ে মো. জিসানুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।