নড়াইলে আনোয়ার হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত
নড়াইল সদর উপজেলার বাসগ্রাম বাজারে মানসিক ভারসাম্যহীন আনোয়ার হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (২ জুলাই বৃহসপতিবার ) বিকেলে স্থানীয় বাসগ্রাম বাজারে সর্বস্তরের এলাকাবাসীর ব্যানারে এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে এলাকার শত শত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ঘন্টব্যাপি বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. মিলন মোল্যা এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন মো. আমিরুল ইসলাম।
মানববন্ধন চলাকালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনদের কান্নায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। সমাবেশে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নিহতের ভাইপো মো. মাহমুদ মোল্যা এবং নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান মোল্যা। বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"আমার চাচা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি কারও কোনো ক্ষতি করেননি। এমন একজন নিরীহ মানুষকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে বা নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। আমরা প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি জানাই খুনিদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে ফাঁসি দেওয়া হোক।"
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন এলাকার মতিয়ার মোল্যা, মো. খাজা মিয়া এবং লাল্টু মোল্যা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পরিকল্পিতভাবে একজন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদি অনতিবিলম্বে পুলিশ প্রশাসন মূল আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনে, তবে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসগ্রাম বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে "আনোয়ার ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই ইত্যাদি স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করে তোলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, নিহতের পরিবারের সুরক্ষায় এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান (ক্রাইম) বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মূল আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ইতিমিধ্যেই অভিযান শুরু করেছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।