নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলায় আরও দুই গ্রেফতার
নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে আটক করে র্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এক নম্বর আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাসকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাসকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, গত শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া থানার নারকেলবাড়িয়া এলাকা থেকে মামলার চার নম্বর আসামি আকাশ বিশ্বাসকে (২৫) গ্রেফতার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। তিনি একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। এ মামলার আরও দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের সময় তার শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং তাকে রাস্তায় টেনে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আটদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আনোয়ার সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ছিলেন। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার আইনে বিচার দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় গত ২৯ জুন নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতেন। ঘটনার দিন সকালেও তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন তাকে চোর সন্দেহে আটক করে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রসেনজিৎ আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ২৫ জুন সকালে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, “আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। সে প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। তাকে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও আমরা তাকে বাঁচাতে পারিনি। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”