ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে কৃষকের মাঠে শত মানুষের কর্মযজ্ঞ

৩১ মে, ২০২৬ - সকাল ১০:৫৩
 2.7k
ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে কৃষকের মাঠে শত মানুষের কর্মযজ্ঞ
ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে কৃষকের মাঠে শত মানুষের কর্মযজ্ঞ

ঈদ মানেই আনন্দ, মিলনমেলা আর উৎসবের আমেজ। তবে নড়াইলের শাহাবাদ ইউনিয়নের জুড়ালিয়া গ্রামে এবারের ঈদ আনন্দের নতুন মাত্রা পেয়েছে এক ব্যতিক্রমী সামাজিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে। উৎসবের অবসরকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের একদল তরুণ, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ওবায়দুর রহমান ( ৫০) এর ফসলি জমিতে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়ে ঈদের সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শনিবার (৩০ মে) সকালে জুড়ালিয়া গ্রামের কয়েকজন উদ্যমী যুবকের আহ্বানে শুরু হয় এই কর্মসূচি। গ্রামের কৃষক ওবায়দুর রহমানের জমিতে আগাছা পরিষ্কার ও নিড়ানির কাজে অংশ নিতে একে একে জড়ো হন এলাকার তরুণরা। পরে এতে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষও। প্রখর রোদ আর কঠোর পরিশ্রমকে উপেক্ষা করে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মযজ্ঞে কৃষকের জমি আগাছামুক্ত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের ছুটিতে সাধারণত মানুষ আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বেড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জুড়লিয়ার তরুণরা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। একজন পরিশ্রমী কৃষকের শ্রমের বোঝা ভাগ করে নিয়ে তারা সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অপ্রত্যাশিত এই সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওবায়দুর রহমান। তিনি উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এত মানুষের একসঙ্গে এগিয়ে আসা তার জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ দেন শাহাবাদ মাজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. রুবেল হাসান এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আনিচুর রহমান। এছাড়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন শিক্ষাক সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ । ফলে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় গ্রামীণ সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

কাজ শেষে মাঠেই আয়োজন করা হয় এক প্রীতিভোজের। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় গরুর মাংস দিয়ে রান্না করা হয় সুস্বাদু খিচুড়ি। খোলা আকাশের নিচে, গাছের শীতল ছায়ায় বসে কৃষক ওবায়দুর রহমান, আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক, তরুণ ও এলাকাবাসী একসঙ্গে দুপুরের খাবার উপভোগ করেন। সেখানে ছিল না কোনো ভেদাভেদ; ছিল শুধু আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য আর একে অপরের প্রতি ভালোবাসা। ঈদের প্রকৃত চেতনা ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণ যেন বাস্তব রূপ পায় এই আয়োজনে।

জুড়ালিয়া গ্রামের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ শুধু একজন কৃষককে সহায়তা করেনি, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের এক শক্তিশালী বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আগামী দিনে আরও বেশি তরুণকে সমাজকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।