নড়াইল বিষ্ণুপুর কালী মন্দিরের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

৮ জুলাই, ২০২৬ - সকাল ৭:৪৭
 220
নড়াইল বিষ্ণুপুর কালী মন্দিরের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর কালী মন্দির সংলগ্ন সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণ ও খুঁটি পুঁতে দখল চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় যুবদল নেতা উজ্জ্বল ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মঞ্জু বিশ্বাসসহ কয়েকজন সরকারি এ জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। 

তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইন অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দ পেলে তবেই জায়গাটি ব্যবহার করবেন তারা।

বিষ্ণুপুর কালীমন্দিরের সেক্রেটারি ও ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি উত্তম ভৌমিক জানান, মন্দিরের প্রায় ৮৬ শতক জমির দুই পাশ দিয়ে রাস্তা রয়েছে। রাস্তার পাশের সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে মন্দির কর্তৃপক্ষ ভোগ দখলে রেখে পরিচর্যা করে আসছে। সেখানে প্রতিবছর ফসল চাষের পাশাপাশি এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, মানবিক কারণে আগে সেখানে দুটি ঘর নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে ঘর সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয়দের নিয়ে একটি শান্তি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ওই রাতেই নতুন করে খুঁটি পুঁতে দখলচেষ্টা শুরু হয়।

উত্তম ভৌমিক অভিযোগ করে আরও বলেন,  স্থানীয় যুবদল নেতা উজ্জ্বল ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মঞ্জু বিশ্বাসসহ কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে খুঁটি পুঁতে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করেন। 

বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, রাস্তার সরকারি জায়গায় নতুন করে দোকান বা স্থাপনা নির্মাণ কিংবা দখলের সুযোগ নেই। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এদিকে শাহাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ওই স্থানে বিএনপির কোনো অনুমোদিত অফিস নেই। দলের অনুমতি ছাড়া কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করলে তার দায় বিএনপি নেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে বিএনপির নাম ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিরোধপূর্ণ স্থানটি দখলমুক্ত করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী জেনার শেখ বলেন, তিন দিন আগে ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি কয়েকজনকে ওই স্থানে দোকান নির্মাণ এবং বিএনপির অফিস করার বিষয়ে আলোচনা করতে দেখেন। পরে সেখানে গিয়ে দেখেন খুঁটি পোঁতার কাজ চলছে। তিনি তাদের বলেন, কালী মন্দির সংলগ্ন জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। এ সময় কয়েকজনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মঞ্জু বিশ্বাস বলেন, আমি জোর করে কোনো জায়গা দখল করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা হচ্ছিল, তাই আমিও সেখানে ছিলাম। জায়গাটি নিয়ে যদি কোনো বিরোধ থাকে, তাহলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমি সেটিই মেনে নেব। সরকার যদি নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়, তাহলে বরাদ্দ নেব। 

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা উজ্জ্বল বলেন, আমি বিএনপির কোনো অফিস করার জন্য খুঁটি পুঁতিনি। নিজের ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেখানে খুঁটি পুঁতেছি। জায়গাটি সড়কের সরকারি জায়গা এবং মন্দিরের সামনের অংশে অবস্থিত। সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে নিয়ম অনুযায়ী এ জায়গা বরাদ্দ দেবে, আমিও সেভাবেই বরাদ্দ নেব। আইন মেনে যা সিদ্ধান্ত হবে, সেটিই আমি মেনে চলব। আর যদি বরাদ্দ না দেয়, তাহলে ওই জায়গা নিয়ে আমার কোনো দাবি থাকবে না। আমি এলাকায় কোনো অশান্তি চাই না।


নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবির বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।